প্রায় সাত বছর সিনেমায় অভিনয় করার পরেও, থিয়েটারকেই প্রথম ভালোবাসা বলে মনে করেন তিনি। তাঁর হাসিতে মন হারিয়েছেন অগুনতি মহিলা ফ্যান। অভিনয় দক্ষতাতে তাকে হারানো মুশকিল বলেই মনে করেন অনেকে। চলুন আজ তার গল্পটা শুনে নেওয়া যাক।
1986 সালে মেদিনীপুর জেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে ছেলেটা। স্কুলের পাঠ শেষ হওয়ার পর সে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। এমনকি মাস্টার ডিগ্রী ও অভিনয়ের উপর লাভ করে সে । 2009 সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে সে ইয়াং আর্টিস্ট স্কলার্শিপ লাভ করে। এই সময়ে থিয়েটারে কাজ করা শুরু করেছিল ছেলেটা। বিজলিবালার মুক্তি নামের নাটকে প্রথমবার দেখতে পাওয়া যায় তাকে। যদিও তার অভিনীত প্রথম নাটক কি ছিল মনোজ মিত্রের লেখা দেবী সর্পমস্তা। এছাড়াও তিনি এন্টনি, সৌদামিনী যারা আগুন লাগায়, বিসর্জন, কারুবাসনা, এগুলোতে অভিনয় করে সে।
গিরিশ কারনাডের লেখা নাগা ম্যান্ডেলা নাটকটিতে তার অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। 2010 সালে সঙ্ঘারাম হাতিবাগান নামে সে তার নিজস্ব থিয়েটার গ্রুপ তৈরি করে। গুরু, চৌমাথা, উদারনীতি, মন্দার প্রভৃতি নাটক সে পরিচালনা করে। জি বাংলা টেলিফিল্ম কাদের কুলের বউ দিয়ে টেলিভিশন জগতে পা রাখে সে। এরপর যদি বলো হ্যা এবং এভাবেও ফিরে আসা যায় টেলিফিল্মেও দেখতে পাওয়া যায় তাকে। এছাড়াও শাশ্বত চ্যাটার্জি সাথে অপুর সংসার নামের একটি টেলিভিশন কমেডি শো তে সে কাজ করে। কালার্স বাংলায় ক্রাইম শো, হুশিয়ার বাংলাতে সাময়িক ভাবে হোস্টের ভূমিকায় তাকে দেখতে পাওয়া যায়।
স্টার জলসার ভূমিকন্যা নামের টেলিভিশন সিরিজেও অভিনয় করে সে। অপর্ণা সেনের আরশিনগর সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখে ছেলেটি। 2016 সালে অরিন্দম শীলের ঈগলের চোখ সিনেমায় তার অভিনীত বিষন রায় চরিত্রটি রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:কেন কেঁদে ফেলেছিলেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি ?
সবার মুখে মুখে ফিরতে থাকে ছেলেটার অসাধারণ অভিনয়ের প্রশংসা। এই রোলে অভিনয় জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় সে। এরপরে ছেলেটি একের পর এক কলকাতায় কলম্বাস, দুর্গা সহায়, ধনঞ্জয়, আলি নগরের গোলকধাঁধায় অভিনয় করে। শ্রীজিৎ মুখার্জী পরিচালিত উমা সিনেমাটিতে তাকে দেখতে পাওয়া যায় নেগাতিভ রোলে। সিনেমা জগতে সাফল্য লাভ করলেও এর পাশাপাশি সে থিয়েটারে অভিনয় চালিয়ে যায়। 2017 সালে অদ্য শেষ রজনী নাটকটির জন্য মাহিন্দ্রা এক্সেলেন্স থিয়েটারে ওয়ার্ড জিতে নেয় সে। একই বছর তাকে দেখতে পাওয়া যায় ব্যোমকেশ ওয়েবসিরিজটিতে স্বয়ং ব্যোমকেশে চরিত্রে। এই রোলের জন্য সে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দর্শকমহলে। যে এরপর ল্যাবরেটরি, পাঁচফোড়ন, মানভঞ্জন প্রভৃতি বেশ কিছু ওয়েব সিরিজে কাজ করলেও তা ব্যোমকেশের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। তার নাম অনির্বাণ ভট্টাচার্য।
2018 সালের শ্রীজিৎ মুখার্জীর শাহজাহান রিজেন্সিতে কেবলমাত্র অভিনেতা হিসেবেই নয় প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবেও কাজ করেন অনির্বাণ। এই সিনেমায় তার গান কিচ্ছু চাইনি আমি গানটি সিনেমার রিলিজের অনেক আগেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এরপর 2020 সিনেমা ড্রাকুলা স্যার এ প্রিয় তমা গানটি তিনি গেয়েছেন। অভিনয় প্রশংসিত হলেও বেশ কয়েকবার বিতর্কে কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অনির্বাণ। এর কারণ কখনো ছিল তার অভিনীত কোন সাহসে দৃশ্য। কখনো বা তার রাজনৈতিক মতাদর্শ। তবে এসব বিষয় নিয়ে কখনোই চিন্তিত হতে দেখা যায়নি তাকে। এক ইন্টারভিউ তে তিনি জানান যদি কখনো পরিচালনার কাজ নিয়ে এগিয়ে যান তিনি, তাহলে হয়তো সিনেমা থেকে নাটকের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকবে তার। ভাল থাকুন অনির্বাণ ভট্টাচার্য আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল।
Cradit-UltiMad Media YouTube/ Sujoyneel
আরও পড়ুন:কেন বর-বউ দুজনের গলায় ঝোলালেন মঙ্গলসূত্র, বিয়ের পর মঙ্গলসূত্র কেবলমাত্র স্ত্রী একাই কেন পরবেন !
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন