রুন কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়িতে বিয়ের নিমন্ত্রণ গেছেন আপনি। বিয়ের অনুষ্ঠানের এগচ্ছে, হঠাৎই দেখলেন কণে এগিয়ে গিয়ে মঙ্গলসূত্র পরিয়ে দিচ্ছে বরের গলায়। আর আপনি জানতে পারলেন পাত্র নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাকি জীবনটা সে মঙ্গলসূত্র পরই কাটাবে। কি ভাবছেন?  হাসবেন আপনি? না আপনি বাহবা দেবেন এমন সাহসী পদক্ষেপের জন্য।

পুনে নিবাসি শার্দুল কাদামের সাথে তনুজার পরিচয় হয় 2017 নাগাদ।  একই কলেজে পড়লেও মুখ চিনতেন পরস্পরের। কখন ও কথা হয় নি সেভাবে। গ্রাজুয়েশন শেষ হতেই কলেজের পাঠ চুকে যায়। তারাও মুছে যান  একে অপরের মন থেকে। আসল গল্প শুরু হয়, এর বছর চারেক পর। যখন হঠাৎ ইনস্টাগ্রামে নতুন করে কথা শুরু হয় দুজনের। হিমেশ রেশমিয়ার একটা গানের প্রসঙ্গ ধরে তনুজাকে মেসেজ করেছিলেন শার্দুল এর কয়েক সপ্তাহ পরে তনুজা প্রস্তাব জানিয়েছিলেন একটা ছোট্ট চা ডেটের। প্রথম ডেটেই প্রচুর গল্প করেছিলেন দুজনে। দুজনেই বুঝেছিলেন অন্যজনকে বলবার মতো এক পৃথিবী কথা রয়েছে তাদের।

 

চাকরি, সিনেমা, ভবিষ্যতের প্ল্যান, পেরিয়ে যখন নারীবাদ নিয়ে কথা ওঠে শার্দুল জানান যে তিনি ঘোরতর ফেমিনিস্ট। আর এখানেই তার ভালো লেগে যায় তাকে। এভাবেই কথা বলা, দেখা, চলতে থাকে দুজনের। শার্দুলের জন্মদিনে নিজের হাতে তৈরি গ্রিটিংস কার্ড উপহার দেন তনুজা। আর কার্ডটা হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে শার্দুল অনুভব করেন এতদিনে রীতিমতো ভালোবেসে ফেলেছেন তিনি তানুজাকে। তনুজা এই কথা জানবার পর তিনি অবশ্য একেবারে চুপ হয়ে গেছিলেন দুদিনের জন্য। দুদিন বাদে শার্দুলকে জানান, তার দিক থেকে একই অনুভূতি রয়েছে।


প্রেমে হাবুডুবু খেতে বিশেষ সময় লাগেনি মানুষ দুটির। এক বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর বাড়িতেও জানান তারা। বাড়ির লোক প্রথম থেকেই রাজি ছিল এই সম্পর্কে ফলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে খুব একটা দেরি হয়নি তাদের। বিয়ের কথা উঠতেই শার্দুল প্রশ্ন করেন কেবলমাত্র স্ত্রী মঙ্গলসূত্র পড়বেন গলায় এমন নিয়ম কেন রয়েছে? তিনি ঠিক করে বসেন তনুজা যদি মঙ্গলসূত্র পরেন বিয়ের পর। তবে তিনিও পডরবেন। এমনকি বিয়ের খরচ যেন সমান দু'ভাগে ভাগ‌ করা হয়।


  

 

মেয়ের বাড়িতে লোককে মূল খরচে সিংহভাগ বইতে হবে বিষয়ে ঘোর বিরোধী ছিলেন শার্দুল। খরচের বিষয়টিতে রাজি হলেও। শার্দুলের মঙ্গলসূত্র পরবার সিদ্ধান্ত শুনে স্তম্বিত হয়ে যান বাড়ির লোকেরা। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে চলে আসতে থাকে বিদ্রুপ মন্তব্য। তবুও নিজের সিদ্ধান্তে শার্দুল অনড় হয়ে থাকেন। তনুজা জিজ্ঞেস করেন শার্দুলের মঙ্গলসূত্র পরবার ইচ্ছেটা কি শুধুমাত্র বিয়ের দিনের জন্যই? কথায় হেসে শার্দুল জবাব দেন না। বিয়ের পর থেকে রোজই আমি মানচিত্র পরে থাকতে চাই।

 আরও পড়ুন:টাটা, বিড়লা, আম্বানির থেকেও বড়লোক এই বয়স্ক মহিলা !

যথা সময়ে সম্পন্ন হয় তাদের। বিয়ের মন্ডপে দুজনেই অন্যজনের গলায় পরিয়ে দেন মঙ্গলসূত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই  সংবাদ ভাইরার হয়ে যায় এই খবর। কিন্তু তারপরেই শুরু হয় দারুন ট্রলিং। কেউ বলেন শাড়িটাও তবে বাদ থাকে কেন। কেউবা বলেন শার্দুলের মতো ফেমিনিস্টরা সমাজের অধঃপতনের কারণ। প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন আর এসব কথা গায়ে মাখেন না তনুজা বা শার্দুল কেউই। 

 

জিজ্ঞেস করা হলে শার্দুল বলেন, এমন তো নয় যে শুধুমাত্র মঙ্গলসূত্র ভাগ করেছে আমি ওর সাথে। তানুজা সাথে আমি সারা জীবনের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছি। ভালো থাকুন ভালো শার্দুল কাদাম, ভালো থাকুন তানুজা।

Cradit-UltiMad Media YouTube/ Sujoyneel

আরও পড়ুন:100 কিলো ওয়েট নিয়েও সিনেমার হিরোইন !


 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন