জ আমরা যার গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি তাকে দেখলে যেন মনে হয় বয়স তার কমেই চলেছে। তার অসামান্য অভিনয়ের যেমন মানুষ বারবার মুগ্ধ হয়েছে। তেমনি তার পেছনে ছাড়েনি কোন সমালোচনায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক তারই গল্প।


মেয়েটা জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের ঢাকায়। বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ছোটদের নাচ গানের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল মেয়েটার। ছবি আঁকতে ভালোবাসতো সে। post-graduation এর আগেই সে রবীন্দ্র সংগীত এর উপর একটি ডিপ্লোমা কোর্স করে। পাশাপাশি আধুনিক সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নেয় সে। গানের প্রতি ভালোবাসার কারণেই সে প্রতিষ্ঠা করে একটি গানের স্কুল। ক্যারিয়ারের শুরুতে মেয়েটি বহুদিন একটানা নাটকে অভিনয় করে গেছে। টিভি নাটক পঞ্চমীতে তাকে প্রথমবার টিভির পর্দায় দেখতে পাওয়া যায়। এসময় মড়েলিং এর কাজ করছিল সে। একটি ক্যালেন্ডারের জন্য তার করা মডিলিং অ্যাসাইনমেন্ট দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল বাংলাদেশী অভিনেতা এবং ফিল্ম ডিরেক্টর আলফাজ হোসেনের। 


যিনি পরবর্তীকালে মেয়েটিকে কোকা-কোলার একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের অফার দেন। এরপর বেশ কিছুদিনের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিল নিজেকে। নিজেকে আবার ডুবিয়ে দিয়েছিল পড়াশোনায়। ভোরের কাগজ নামের একটি সংবাদপত্রের জন্যেও কাজ করেছিল বেশ কিছুদিন। যদিও অভিনয় জগত ফের টানতে থাকে তাকে। মেয়েটি ফিরে আসে টেলিভিশন নাটক এবং সিরিয়ালের দুনিয়ায়। 2004 সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ব্যাচেলার নামক ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখে। যদিও এখানে অতিথি শিল্পী হিসেবে খুব কম সময়ের জন্যই দেখতে পাওয়া গেছিল তাকে। তবে এরপর টানা ছয় বছর কোথায় কাজ করেনি সে। প্রথমবার মুখ্য চরিত্র হিসেবে কাজ করে 2011 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা গেরিলায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা সায়েদ শামসুল হকের একটি উপন্যাস এর উপর ভিত্তি করে গেরিলা সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছিল। এই সিনেমায় বিনকিস্ বানুর চরিত্রে তার অভিনয় অতন্ত প্রশংসিত হয়। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মেয়েটি জিতে নেয় জাতীয় পুরস্কার.

  আরও পড়ুন:মেদিনীপুরের সাধারন ছেলেটা আজ সারা বাংলার ক্রাশ !

চোরাবালি নামক থ্রিলার সিনেমাটিতে অভিনয় এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পায় সে। 2013 নাগাদ ভারতীয় সিনেমায় অভিনয় করা শুরু করে মেয়েটি। অরিন্দম শীলের  আবর্ত সিনেমাটিতে তার অভিনয় ক্রিটিক মহলে সমাদৃত হয় এবং মেয়েটি পায় 66 তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে অফিসিয়াল ইনভিটেশন। এরপর পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী' পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী 2 এবং জিরো ডিগ্রী সিনেমাতে অভিনয় করে সে। 2015 সালে শ্রীজিৎ মুখার্জী পরিচালিত রাজ কাহিনী সিনেমায় একটি পার্শ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় মেয়েটিকে। এখানে তার অভিনয় একদিকে যেমন বিপুল প্রশংসা পায়, অন্যদিকে তেমনি বেশকিছু সাহসে দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তার নাম জয়া হাসান। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী এবং মডেল। তিনি একাধারে অভিনয় করে গেছেন প্রচুর বাংলাদেশী ভারতীয় সিনেমায়। যার মধ্যে রয়েছে বিসর্জন, এক যে ছিল রাজা, বিজয়া এবং কণ্ঠ এর মতো সিনেমা।

 

2018 এই তার অভিনীত দেবী সিনেমাটি হুমায়ূন আহমেদের লেখা মিসির আলি সিরিজের একটি গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছিল। যেখানে মিসিরআলি চরিত্র দেখতে পাওয়া যায় চঞ্চল চৌধুরীকে। জয়া আহসান যে শুধুমাত্র অভিনেত্রী হিসেবেই এই সিনেমার অংশ ছিলেন তা নয় বেবি ছিল তার প্রোডাকশন হাউজের প্রথম কাজ। এছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন বহু টেলিফিল্মে যার মধ্যে রয়েছে আমাদের গল্প, বিকল পাখির গান, দে দৌড়, নীল বোতাম প্রভৃতি। তিনি 4 বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন এবং মেরির আলো প্রথম পুরস্কার মোট সাতবার। সিনেমার পাশাপাশি প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবেও কাজ করেছেন বেশ কিছু সিনেমায়। u.s. এজেন্সি  ইন্টারন্যাসনাল ডেভলপমেন্ট এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ভাল থাকুন জয়া, আমরা আপনার আরো কাজ দেখতে চাই।

Cradit-UltiMad Media YouTube/ Sujoyneel

  আরও পড়ুন:কেন বর-বউ দুজনের গলায় ঝোলালেন মঙ্গলসূত্র, বিয়ের পর মঙ্গলসূত্র কেবলমাত্র স্ত্রী একাই কেন পরবেন !

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন