Today News ডেস্ক: কোরনার মহামারীর কারণে ভারতবর্ষের বিশাল জীবিকা সংকট দেখা দিতে পারে। সংবাদসংস্থা পিটিআই কে দেওয়া এক সাক্ষাতকরে এই আশঙ্কার কথা সুনান বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণ করা ভারতীয় অর্থনীতিতে জঁ দ্রেজ।
সম্প্রতি সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি (CMIE) তাদের এক মাসিক সমীক্ষা রিপোর্টে জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণ আটকাতে বিভিন্ন রাজ্যের স্থানীয়ভাবে লকডাউন জারি করায় গত এপ্রিল মাসে দেশে ৭৫ দক্ষ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। ওই মাসে দেশে বেকারত্বের হার আগের চার মাসের সর্বোচ্চ ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু সিএমআইই এর পরিসংখ্যান মানতে অস্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
অর্থনীতিবিদ দ্রেজ মনে করেন, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের শ্রমজীবী দের অবস্থা গত বছরের থেকেও বেশি খারাপ হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,২০২৪-২০২৫ সালের মধ্যে ভারতকে ৫ লক্ষ্য কোটি ডলার মূল্যের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে সোনালী স্বপ্নের হাতছানি কেন্দ্রীয় সরকার দেখি এসেছে বরাবরই ছিল অলিক স্বপ্নের মাত্র। ওই লক্ষ্য কোনদিনই বাস্তবসম্মত ছিল না। ওটা ছিল কেবল ভারতীয় ধনীদের 'সুপার-পাওয়ার'গুগল কাকে লাইক দিতে সরকারের তাল ঠোকা মাত্র।
প্রখ্যাত এই অর্থনীতিবিদের মতে, গত বছরের এই সময়ে দেশে শ্রমিকশ্রেণীর আর্থিক অবস্থা যেমন ছিল তার সঙ্গে এখনকার অবস্থান বিশেষ কোন ফারাক নেই। তুমি বলো বিশ্বের করে সব রাজ্যে কোন স্থানীয় লকডাউন বাজার হাট, যাতায়াত প্রভৃতির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এর অর্থনৈতিক প্রভাব হয়তো দেশজুড়ে লকডাউন এর মত এতটাও দরকার হবে কিন্তু অন্য কয়েকটি মাপকাঠিতে শ্রমজীবীদের অবস্থা গত বছরের তুলনায় এখন আরো খারাপ হয়েছে।'
তিনি আরো বলেন, মানুষের মনের সংক্রমণ এবং হয় এখন আগের তুলনায় অনেক বেশী এবং তার ফলে অর্থনৈতিক দ্রুত সেরে ওঠা অনেক কঠিন হবে। তার মতে গণ টিকাকরণ সত্ত্বেও দীর্ঘদিন হয়তো কয়েক বছর ধরে মাঝে মাঝে আর্থিক সংকট দেখা দেবে। গত বছর কেন্দ্রিয় সরকার কোভিডের জন্য আর্থিক চান প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। আর এখন সেই প্রস্তাব নিয়ে কোন কথাই বলা হচ্ছে না।
দ্রোজ মনে করেন,'আজ গুলো একের পর এক যুবকের লকডাউন প্রশ্ন করছে তা অচিরেই জাতীয় লকডাউনের আকার নেবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে আবার একবার অভূতপূর্ব জীবিকা সংকটের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।'
কুরবানী কেন্দ্রিক চরম গাফিলতি তীব্র সমালোচনা করে দ্রেজ বলেন,'ভারত সরকারের বারবারই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এসেছে। যেমন দীর্ঘদিন কোভিডের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর কথা সরকার স্বীকারই করতে চায়নি। পরে যখন করোনা আক্রান্তদের সরকারি পরিসংখ্যান স্পষ্ট হলো। দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা কিভাবে ঘুমিয়ে পড়েছে সরকার ওই তথ্য সরিয়ে দিল।
কিছু হয়নি সেটি জনগণকে বুঝাতে চেয়েছেন তার কিভাবে নিয়মিত ভুল পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে তা তুলে ধরে দ্রেজ বলেন, 'কোন সংকট কে অস্বীকার করার অর্থই সংকটকে আরো ঘনীভূত করে তোলা। আমাদের এখন সেই আত্মতুষ্টীর মূল্য চোকাতে হবে।
কিন্তু সরকারের উচিত যত শিগগির সম্ভব গত বছরের মতো আর্থিক ত্রান প্যাকেজ ঘোষণা করে। আর তার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরাল করা। উল্লেখ্য ইউপিএ জমানায় কেন্দ্রীয় সরকারের মেশিন অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল নতুন সদস্য ছিলেন অর্থনীতিবীদ জঁ দ্রেজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন