সামনে একুশের ভোট, তাই রাজ্য সরকার তার দলকে বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া। আর তারই এক ধাপ এগিয়ে সিআইডিকে দিয়ে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে ফের চার্জশিট দাখিল করলেন। নদীয়ার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস হত্যা মামলায় শনিবার মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। রানাঘাট আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি নদীয়ার হাঁসখালি তে খুন হয় নদিয়া কৃষ্ণনগরে তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। আর এই ঘটনার পর উত্তাল হয়ে রাজ্য রাজনীতি। তন্তু রিভার গিয়ে পড়ে সিআইডির উপর। আর তদন্তে নেমে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি ।এর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে আগেই চার্জশিট পেশ করে তদন্তকারীরা। বাকি যে দুজন তারা প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যান।
গত বছর সরস্বতী পুজোর দিন বাড়ির সামনে গুলি করে সত্যজিৎ বিশ্বাস কে হত্যা করা হয়। এলাকার সব লাইট বন্ধ করে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। আর এই ঘটনা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে মুকুল রায়, জগন্নাথ সরকারদের নামে।ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।
বিজেপির দাবি ছিল, শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে খুন হয়েছেন তিনি। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ যে মুকুল রায় খুন করেছে। অবশ্য লোকসভা নির্বাচনের আগে আগাম জামিন পেয়ে গ্রেপ্তারি এগিয়েছিলেন মুকুল রায়। শর্তসাপেক্ষে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতে চাপানো শর্ত গুলির মধ্য ছিল প্রথম, তিনি নদীয যেতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, তাকে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে।
মুকুল ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, তিনি আগাগোড়াই তদন্ত সহযোগিত করছেন। সিআইডি টা যতবার তাকে ডেকেছেন, ততোবারই হাজির হয়েছেন। এমনকি লোকসভা ভোটের আগে ও জেলাতেও জাননি।
সূত্রের খবর,সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় মুকুল রায়ের নাম মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র এবং খুনের ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়েছে, তৃণমূল বিধায়ক খুনে জড়িত আততায়ীদের সঙ্গে খুনের আগে এবং পরে যোগাযোগ ছিল মুকুল রায়ের। তাদের আগ্নেয় অস্ত্র সরবরাহ থেকে খুনের পর পালিয়ে যাওয়ার পথ করে দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ এনেছে সিআইডি।
মুকুল রায়ের উপর চার্জশিট পেশ হয় বিজেপির বক্তব্য, প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে বর্তমান সরকার। বাংলায় পুলিশরাত চলছে। বিরোধীদের মিথ্যাকে যে ফাঁসান পশ্চিমবঙ্গের ট্রেন্ড হয়ে গেছে।এমনকি মুকুল রায়ের বক্তব্য "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো পুলিশ মন্ত্রী আর তার নির্দেশেই এই চার্জশিট হয়েছে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বলছি, বুকে হাত দিয়ে বলুন মুকুল রায় কি এই খুন করতে পারেন?"তিনি আরো বলেন চার্জশিট থাকার ফলে তিনি বিচলিত নন কারণ তার এমন ৪৪ মামলা রয়েছে।আইন শাসন রাস্তা আছে আইনের প্রতি লড়ে নেব চার্জশিটে নাম দিচ্ছে কে? দপ্তরের মন্ত্রী কে? তাকে গিয়ে প্রশ্ন করুন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন