কটা সময় হল পেত না ছেলের সিনেমা গল্প নিয়ে ঘুরে বেড়াতো প্রোডিউসারদের দুয়ারে দুয়ারে। কিন্তু কেউ রাজি হতো না সিনেমা বানাতে। ধাক্কা খেতো, আঘাত পেত, তবুও হারমান তো না ছেলেটা। আর তাই মাত্র 50 পয়সা পারিশ্রমিক নিয়ে সিনেমা বানানো ছেলেটা আজ বাংলার অন্যতম সফল পরিচালক ও প্রযোজক। চলুন আজ পড়া যাক তার গল্পটাই।


1974 সালের 20 শে মার্চ কলকাতার বরানগরের এক মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে জন্ম হয় ছেলেটার। আর পাঁচ বাঙালি বাড়ির ছেলেদের যেমন ছোট থেকেই পড়াশুনার প্রতি নজর দিতে বলা হয়, এই ছেলেটির ক্ষেত্রেও অমান্য হয়নি সেই নিয়ম। প্রথমে বরানগর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম স্কুল তারপর হিন্দু স্কুল। ছেলেটির স্কুল জীবন কাটে এই দুই স্কুলে। এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিটিক্যাল সাইন্সে স্নাতক। কিন্তু এর মাঝেই অভিনয় ভুত মাথায় চেপে বসেছে ছেলেটার। তাই সে থিয়েটার এর খুঁটিনাটি শেখা শুরু করে বিখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত কাছে। কিন্তু শুধু থিয়েটার করে তো পেট চলেনা।


তাই সে জার্নালিস্ট হিসেবে যোগদান করলো আনন্দলোক ম্যাগাজিনে। আর এখানেই তাঁর বিখ্যাত চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের সাথে। যিনি ছেলেটার মধ্যে লুকিয়ে থাকা গল্প বলি সত্তাটিকে  চিনে ফেলেন কিছুদিনের মধ্যেই। ঋতুপর্ণ ঘোষ ছেলেটিকে অভিনয় করার সুযোগ দিলেন বাড়িওয়ালী,দহন ইত্যাদি সিনেমায়। তার আগে অবশ্য ছেলেটা রাজা দাশগুপ্তর একুশে পা, জন্মভূমি, কিংবা ঘুম নেই এর মত সিরিয়ালে অভিনয় করে একটু- আদটু জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছিল। অভিনয় তো হলো, এবার ছেলেটার মাথায় ভূত চাপলো পরিচালনার। একা হাতেই ইটিভি বাংলা সহ বাংলার বিখ্যাত চ্যানেলগুলোর একাধিক ফিকশন ও নন-ফিকশন শো সামলাতে লাগলো দক্ষতার সাথে। কিন্তু সিনেমার পোকা একবার যার মাথায় ঢুকে যায় সে কি আর অত সহজে রেহাই পায়। তা-ই নন্দিতা রায় সাথে আলাপ হতেই সুচিত্রা ভট্টাচার্যের একটা গল্প নিয়ে সিনেমা বানানোর সিদ্ধান্ত নিল সে। গল্পতো রেডি কিন্তু তাতে পয়সা ঢালবে কে?

 

আরও পড়ুন:আপনি এই ভিডিও দেখেন অথচ এটা জানেন না !

বাংলায় রিমেকের রমরমা, এক এক করে 50 টা প্রডিউসার  দরজায় ঘুরেও যখন কোন লাভ হল না এগিয়ে এলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সিনেমা তৈরি হল 2008 সালে। কিন্তু মুক্তি পেতে পেতে গেল তিন বছর। 2011 মুক্তি পেল ইচ্ছে নামক সেই ছায়াছবিটি। প্রথমদিকে যে সিনেমা হল ছিল না পরবর্তীতে সেই সিনেমায় হয়ে দাঁড়ালো ব্লকবাস্টার হিট টানা 125 দিন সিনেমা হলে চলেছিল ইচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের দেখানো হয়েছিল সেই সিনেমা আর এই সিনেমার হাত ধরেই বাংলা চলচ্চিত্র জগতে জন্ম হলো দুই পরিচালকের শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়। শুধুমাত্র ভালো ক্যামেরা সিনেমা বানাবেন বলে যারা অ্যাক্সিডেন্ট সিনেমাটা বানিয়ে পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন এক টাকা মাত্র। 50 পয়সা 50 পয়সা ভাগ করে নেওয়ার পরও তাদের মুখে অবিচল ছিল তৃপ্তির হাসি। এই মানুষগুলো সাকসেসফুল হবে নাতো কারা হবে। 


এরপর অলীক সুখ, বেলা শেষে, প্রাক্তন, পোস্ত, হামি, কন্ঠ, গোত্র একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা বাঙালিকে উপহার দিয়ে শিবু প্রসাদ সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে খারাপ সময়ে ভেঙে না পড়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করলে একদিন না একদিন সাফল্য আসবেই। তাই হয়তো একসময় প্রেডিকশন না পাওয়া ছেলেটা আজ নিজেই প্রডিউসার। শিবপ্রসাদ বাবু নন্দিতা দেবীর প্রোডাকশন হাউজ Windows production house থেকে আজ তারা নতুন পরিচালক নতুন লেখকের নতুন অভিনেতাদের সুযোগ দেন সিনেমায়। 50 পয়সা পারিশ্রমিক নেওয়া শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আজ আড়াই কোটি টাকা ঢেলে রসগোল্লার মত সিনেমা বানান। তাহলে বুঝতে পারলেন তো সততার পরিশ্রম একটা মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। ভালো থাকুন শিবপ্রসাদ বাবু আপনার এবং নন্দিতা রায়ের পরিচালনায় আমরা আরো ভালো সিনেমা বাংলা সিনেমা উপহার পেতে চাই।

Cradit-UltiMad Media youtube

আরও পড়ুন: সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও বদলাননি সাউথের এই অভিনেতা !

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন