স্বয়ং অপর্ণা সেন মুগ্ধ হয়েছিলেন এই ব্যক্তির অভিনয় দেখে। নিজে থেকেই অফার করেছিলেন তার সিনেমায় অভিনয় করবার জন্য। এনাকে আমরা কখনো দেখতে পেয়েছি দুধে পুলিশ অফিসার হিসেবে, কখনো বা ডাকসাইটে গুন্ডা, কখনো আবার ক্রিকেট কোচের ভূমিকায় অভিনয় করে চোখে জল এনে দিয়েছেন দর্শকদের। চলুন আজকের ভিডিওতে রইল সেই অভিনেতার গল্প, যাকে অনেকে চেনে টিনু গুন্বা নামে 1971 সালের 8 ই অক্টোবর পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জন্ম হয়েছিল ছেলেটার। ছোট থেকেই অভিনয় প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল বলেই হয়তো স্কুলের গন্ডি পেরোতেই অভিনয়কে বিষয় হিসেবে বেছে নেয় সে। নিউ দিল্লির নেশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে সে তার গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করে।


তবে অভিনয় শিখলেই তো আর হয়না, প্রত্যেক অভিনেতাকে একটা সঠিক সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। জিনিসপত্র গুছিয়ে মুম্বাই পাড়ি দিল ছেলেটা। একের পর এক ফিল্মের অডিশনেদ উড়ে বেড়াতে লাগল নিজের পোর্টফলিও হাতে করে। যদিও এতে লাভ হলো না কিছুই, কারন ছেলেটার পরিবারের কারো সাথে কখনোই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কোনরকম যোগাযোগ ছিল না।এই গ্ল্যামার জগৎকে কোন নিয়মে চলে তা বুঝতে বসতে বহু সময় চলে গেছিল তার। এদিকে সঙ্গে আনা টাকা ফুরিয়ে আসছে শেষমেষ পেট চালানোর জন্য ট্যাক্সি চালানো শুরু করল সে। যে মানুষটি দুই চোখ ভরা সপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ের মাটিতে পা রেখেছিল আজ তাকেই স্টিয়ারিং ধরে নেমে পড়তে হলো রাস্তায়।

আরও পড়ুন: 30 পয়সার পেনবিক্রেতা থেকে বলিউডের সুপারস্টার কমেডিয়ান  !

 তবে কোনো মানুষের ভাগ্যেই সারা জীবন একরকম যায় না। অবশেষে এলো সুযোগ 1996 সালে মাচেস নামের বলিউড ফিল্মের একটা ছোট হলে অভিনয়ের সুযোগ পেলে ছেলেটা। আর তার অভিনীত প্রথম সিনেমা টা জিতে নিল জাতীয় পুরস্কার। কিন্তু একটি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সিনেমায় অভিনয় করার পরেও পরের নটা বছর একটি সিনেমার অফার এল না তার কাছে। ধীরে ধীরে হতাশা বানতে লাগল তার মনে।মুম্বাই ছেড়ে ছেলেটা চলে এলো কলকাতায়। এখানে থাকাকালীন সে বাংলা ভাষাটা ভালোমতোই রপ্ত করেছিল আর অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তো তার বরাবরই ছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই রঙ্গকর্মী (Rangakarmee) নামের একটি থিয়েটার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল। মঞ্চে অভিনয়ের সময় যখন ছেলেটা দৃপ্ত ভঙ্গি তা একের পর এক বাংলা সংলাপগুলো বলে যেত তখন মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকত দর্শকেরা। এই সময় কোন একটা নাটকে তাঁর অভিনয় দেখে খুশি হয়েছিলেন অভিনেত্রী ও ডিরেক্টর অপর্ণা সেন। আর তাই 2000 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পারমিতার একদিন সিনেমায় তিনি কাস্ট করেন ছেলেটিকে। এই একটা ঘটনা অনেকখানি বদলে দিয়েছিল ছেলেটা জীবনে। এরপর একের পর এক বাংলা সিনেমার অফার আসতে থাকে তার কাছে। যদিও তার অভিব্যক্তির কারণে নেগেটিভ রোলের অফার বেশি নিয়ে আসতেন প্রোডিউসাররা। প্রতিবাদ, সোনার সংসার, সাথী-র মত বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করার পর 2002 সালে সুযোগ এলো স্বয়ং ঋতুপর্ণ ঘোষের সাথে তার শুভ মহরত ছবিতে কাজ করার। 2003এ সন্দীপ রায় পরিচালিত বোম্বাইয়ের বোম্বেটে সিনেমায় অভিনয় করে ছেলেটা। এরপর আর কে থামাতে তাকে মানুষটার নাম রাজেশ শর্মা।

 

যিনি আজ একই সাথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলিউড এবং টলিউড দুই ইন্ডাস্ট্রি। এর পরের কয়েক বছরে তিনি কাজ করেছেন 100 টিরও বেশি সিনেমায়। যার মধ্যে রয়েছে পরিণীতা, নো ওয়ান কিলড্ জেসিকা, বাই বাই ব্যাঙ্কক, চিল্লার পার্টি, বাইশে শ্রাবণ, দ্য ডার্টি পিকচার, স্পেশাল 26, বেগম জান, সুপার 30, ড্রিম গার্ল এর মতো সিনেমা, বাজরাঙ্গি ভাইজান, বাটলা হাউস কিংবা এমএস ধোনির মত সিনেমায় অভিনয় করে রীতিমতো প্রশংসা কুড়িয়েছেন ক্রিটিকদের। ভালো থাকুন রাজেশ শর্মা আপনি দেখিয়ে দিয়েছেন নিজে স্টিয়ারিং নিজের হাতে থাকলে জীবন কোথায় যেতে পারে।

আরও পড়ুন: হিরোর পিছনে নাচা ডান্সার থেকে আজ সাউথের সুপারস্টার!


 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন