কসময় তামিল তেলুগু মালায়ালাম কান্নার ভাষার সিনেমাগুলো শুধুমাত্র সাউথ ইন্ডিয়ান মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু বর্তমানে সাউথ ইন্ডিয়ান ছবির ফ্যান সারা ভারতে ছড়িয়ে গেছে। আর দক্ষিণে সিনেমাগুলোর এই সাফল্যের পিছনে যে কয়েকজন অভিনেতার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি রয়েছে আমাদের আজকের গল্পের নায়ক তাদের মধ্যে একজন। তিনি একমাত্র সাউথ ইন্ডিয়ান সেলিব্রিটি, যার ফেসবুকে ফলোয়ারের সংখ্যা 1.25 কোটিরও বেশি। চলুন তাহলে তার সাফল্যের গল্পটা শুনে নেওয়া যাক।



 ছেলেটি জন্ম 1983 সালে চেন্নাইয়ে হয়েছিল। বাবা ছিলেন ফিল্ম প্রডিউসার, দাদু পদ্মশ্রী প্রাপ্ত অভিনেতা। ছেলেটা চাইলে খুব সহজেই ফিল্মের জগতে পা রাখতে পারত। কিন্তু সে চেয়েছিল নিজের জায়গা নিজে তৈরী করতে। ছোট থেকেই পড়াশোনায় মন বসছে না তার। ইচ্ছে করতো সারাদিন অভিনয় আর নাচ নিয়ে ডুবে থাকতে। পারিবারিক পরিচিতি দৌলতে সেই সময়ে ছেলেটা অভিনেতা চিরঞ্জীবীর সিনেমা বিজেতায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল।


2001 সালে ড্যাডি নামের একটি ফিল্মে ডান্সার হিসেবেও কাজ করেছিল সে। ফেল্মের  লাইন এ আসাবার জন্য বাবা তার উপর কখনোই চাপ সৃষ্টি করেননি। 2002 এ বাবা ঠিক করে ছেলেকে কানাডা পাঠাবেন পড়াশোনার জন্য। আর তখনই ছেলেটার কাছে আসে একটা সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ। সিনেমাটার নাম ছিল গঙ্গোত্রী আর অভিনেতার নাম আল্লু আর্জুন(Allu Arjun) এই সিনেমাটার জন্য তিনি জিতে নিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি আওয়ার্ড।

আরও পড়ুন: গানের  স্কুলের শিক্ষিকা থেকে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অভিনেত্রী!

 2004 এ আসে তার দ্বিতীয় সিনেমা আরিয়া। আরিয়া এত টা হিট হয় যে টিভিতে এসে যাওয়ার পরও সিনেমা হলে টানা 400 দিন চলেছিল সেটা। 4 কোটি টাকা বাজেট নিয়ে তৈরি করা এই সিনেমাটি 30 কোটি টাকারও বেশি উপার্জন করেছিলো। অথচ শুনলে অবাক হবেন ফিল্মের ডিরেক্টর এই সিনেমার নায়ক হিসেবে আল্লু আর্যুন কে প্রথমেই বেছে নেন নি। রাবি তেজা, প্রভাস সিনেমাটির নায়ক এর রোল ফিরিয়ে দেওয়ার পর আল্লু আর্জুনের কাছে তা আসে। আর এই একটা সিনেমার জন্য তিনি হয়ে ওঠেন সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমার সুপারস্টার।


 অ্যাকশন দৃশ্য অভিনয় করতে একেবারেই ভাল লাগত না তার। কিন্তু সেই সময়ে অ্যাকশন হিরোরাই ট্রেন্ডে ছিলেন। তাই বাধ্য হয়েই নিজের সিনেমার জন্য একশন মুভ্স শিখতে হয় তাকে। রুদ্রমাদেবি, বদ্রিনাথ, বাণী, আরিয়া-2, ইয়েবারুর মতো নানা হিট সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। 2020 তে রিলিজ হওয়া আলাবৈকন্ঠপুরমেলু সিনেমাটি ছিল তার জীবনের highest-grossing সিনেমা। বদ্রিনাথ সিনেমার জন্য তিনি ভিয়েতনাম থেকে মার্সালাট  শিখে এসেছিলেন। কিন্তু এই সিনেমার কিছু অ্যাকশন দৃশ্য এতটাই ভায়োলেন্ট হয়ে গেছিল যে সেন্সর বোর্ড রিলিজের আগেই সেদৃশ্যগুলি কেটে বাদ দিতে বলে। যেমন ভাবে রজনীকান্তকে তার ফ্যানেরা থালাইবা অথবা প্রভাসকে ডার্লিং বলে ডাকে। ঠিক তেমনি আল্লু আর্জুনকে ভালোবেসে ফ্যানেরা বাণী বলে ডাকে। একই নামের একটা সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছিলেন। মজার বিষয় হলো বাড়িতে আলু অর্জনের ডাকনাম কিন্তু বাণী। আলু আর্জুন তার প্রতিটি সিনেমায় একদম নতুন লুক নিয়ে হাজির হন।


শুধু সিনেমার পর্দাতেই নয় বাস্তব জীবনেও তিনি স্টাইল স্টেটমেন্ট মেইনটেইন করা ভীষণভাবে পছন্দ করেন। তাই তো তাকে সাউথ ইন্ডিয়ান স্টাইলিশ স্টার বলা হয়ে থাকে। তার সিনেমাগুলোর এত জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সেগুলো তামিল অথবা তেলুগু তৈরি হওয়ার পর হিন্দিতেও সেগুলোর ডাবিং করা হয়। ফলে খুব সহজেই আরো অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায় সিনেমাগুলো। ভালো থাকুন স্টাইলিশ ষ্টার আল্লু আর্যুন। আপনার নাম এবং অভিনয় প্রতিভার ছটা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ুক।

Cradit-UltiMad Media(youtube)

আরও পড়ুন:একুশ বছর বাদে ভারতীয় মিস ইউনিভার্স !

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন