তার ইচ্ছে ছিল হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স করে সেফ হবেন কোনো দামি রেস্তোরাঁয়। রান্নার প্রতি এতটা আগ্রহ ছিল তার। অথচ ভাগ্যের এমনই ফের তিনি হয়ে উঠেছেন সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা এক অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। আসুন জেনে আসি এই মানুষটার সফলের গল্প।
ছেলেটার বাবা ছিলেন সেসময় তামিল ইন্ডাস্ট্রির নামকরা ফিল্ম ডিরেক্টর। বহু সংগ্রামের পর এই জায়গায় এসে পৌঁছে ছিলেন তিনি। এমন একটা সময় কেটেছে ছেলেটির বাবা যৌবনে যখন মাত্র 50 টাকার বিনিময়ে নিজের লেখা গল্প তিনি নামী লেখক দের কাছে বিক্রি করেছেন। স্ট্রাগেল কাকে বলে তা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। তাই হয়তো চেয়েছিলেন তার ছেলের হাতে যে সুযোগটা রয়েছে সে তার সদ্ব্যবহার করুক। কিন্তু ছেলের ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে। কিংবা কোন ফাইভ স্টার হোটেলের শেফ।
2002 সালে বাবা যখন তার ফিল্ম থুল্লুভার ইল্লমাইতে ছেলেটিকে কাস্ট করতে চাইলেন ছেলেটি একেবারেই বেঁকে বসে ছিল কারণ স্টেজে উঠেলে,তার হাটু কাপতো। এমনকি মানুষের ভিড়ের মাঝে দাঁড়ালেই নার্ভাস হয়ে পড়তো সে। কিন্তু বাবা কোন কথা শুনতে রাজি হলেন না। সিনেমাটি তৈরি হলো। রিলিজও হলো যথা সময়ে। আর তারপরেই এক নতুন তামিল হিরো নিন্দায় ছেয়ে গেল খবরের কাগজ। সেদিনের কাগজটা হাতে তুলে নিয়ে কেঁদে ফেলেছিল ছেলেটা। কিন্তু এরপরই তার জেদ চেপে গেল। শুধুমাত্র তথাকথিত নায়কদের মতো তাকে দেখতে নয় বলেই সে নিন্দা মেনে নেবে চুপচাপ? কাধাল কোন্ডে সিনেমা নিয়ে আবার ফিরে এলো সে। এখানে তাকে দেখতে পাওয়া গেল এক মেন্টাল যুবকের ভূমিকায়। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের ঝুঁকি অন্য কোন অভিনেতা তুলে নিতে পারতো কিনা জানা নেই। এই সিনেমায় ছেলেটির অভিনয় রিতিমত আলড়ন ফেলে দিল ক্রিটিক মহলে। 2006 সালে ভিডিও অভিনয় করলো পুদুপেট্টাই নামক ফিল্মে। এই সিনেটা এতটাই হিট হলো। যার জন্য তার একটা বিশাল বড় ফ্যান বেজ তৈরী হয়ে গেল।
আরও পড়ুন: হিরোর পিছনে নাচা ডান্সার থেকে আজ সাউথের সুপারস্টার!
প্রত্যেক শিল্পির জিবনেই ড্রিম প্রজেক্ট থাকে। ছেলেটির কাছে তা ছিল আদুকালাম নামের সিনেমাটি। সিনেমাটির মূল বিষয় ছিল মোরগের লড়াই, কিন্তু এই কাজে বাধা হয়ে দাড়ালো ছেলেটির বার্ড এলার্জি। তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল অভিনয় ক্ষেত্রে বডি ডাবল ব্যবহার করার। কিন্তু এতে সে রাজি হয়না প্রয়োজনীয় মেডিকেল এসিস্টেন্ট নিয়েও সে নিজেই অভিনয় করেছিল সমস্ত দৃশ্যে। এই সিনেমার জন্য সে জিতে নিল ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। আর সেই সময় দাঁড়িয়ে ছেলেটি ছিল ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত অভিনেতাদের মধ্যে কনিষ্ঠতম। তার নাম ভেঙ্কটেশ প্রভু কাস্তুরি রাজা(Venkatesh Prabhu Kasthuri Raja) কি চিনতে পারলেননা তো? নিজের নামের সাথে দুই প্রবীণ দক্ষিণী অভিনেতার নাম এর মিল থাকার কারণে তিনি অভিনয়ে আসার সময় নাম পাল্টে ধনুস (Dhanush) করে নেন। তার ফিল্ম থ্রি এর জন্য তিনি কম্পজ করেছিলেন কোলাভেরি ডি নামের একটি গান। এই গানটি ও গিয়েছিলেন তিনি নিজেই। কলাবেরি ডি হয়ে দাঁড়ায় ভারতের প্রথম মিউজিক ভিডিও যার ভিউজ ,100 মিলিয়ন ক্রস করে যায়। সারা পৃথিবীর মানুষ এই গানের সুরে পা মিলিয়েছিল।
এই গানেই ধানুষ নজরে পড়েন ফিল্ম ডিরেক্টর আনন্দ এল রাই এর। যিনি তাঁর রাজনা ছবিতে নায়ক চরিত্রে কাস্ট করেন ধানুশকে। এটি ছিল দেশের প্রথম বলিউডি সিনেমা। ধানুস এই সিনেমার জন্য হিন্দি শিখে ফেলেন। বলুনতো সিনেমা দেখে একবারও মনে হয়েছে তিনি হিন্দি জানতেন না এর আগে।আজ অব্ধি বেঁটে কালো একটি ছেলে মানে ধানুষের সাফল্যের তালিকায় জায়গা করেছে একের পর এক হিট সিনেমা। শোনা যাচ্ছে জলদি নাকি রাইন গাসরিং এবং ক্রিস ইভানের সাথেকোন হলিউডি প্রজেক্টে কাজ করতে চলেছেন তিনি। ভাল থাকুন ধানুষ আপনি প্রমান করে দিয়েছেন গায়ের রং উচ্চতা বা দেখতে যেমনই হোক না কেন, তার সাফল্যের পথে কোনো বাধাই হতে পারে না।
Cradit-UltiMad Media youtube
আরও পড়ুন:একুশ বছর বাদে ভারতীয় মিস ইউনিভার্স !
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন