জ তাকে সিনেমার পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ। অথচ একটা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে থেকে বাংলাদেশের অন্যতম সেলিব্রেটেড সুপারস্টার হয়ে ওঠার পেছনে গল্পটা কজনই বা জানে। কখনো তিনি কাজ করেছেন এইড্স এর ক্যাম্পেইনে। কখনোবা চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য পোস্টার ডিজাইন করেছেন। আর এসবের পরেও স্বপ্ন দেখার সাহস দেখিয়েছেন। আজকের ভিডিওতে রইল, সেই জনপ্রিয় বাংলাদেশী অভিনেতা গল্প যিনি কেবলমাত্র অভিনয় করেন না নিজের অভিনীত চরিত্র গুলোর মধ্যে দিয়ে নতুনভাবে বাঁচেন।


ছেলেটা জন্ম হয়েছিল ঢাকার গৌরনদী উপজেলার, পিঙ্গলাকাঠী গ্রামে। 1972 সালের 22 শে অগাস্ট ছেলেটির বাবা গভীর আগ্রহ ছিল অভিনয় প্রতি। বেশ কিছুদিন মঞ্চে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এমনকি তারা আবৃত্তির গলাতেও ছিল অত্যন্ত দরাজ। ছেলেটা মুগ্ধ হয়ে বাবার আবৃত্তি শুনতো। বাবার থেকেই হয়তো অভিনয় সখ বাসা বেঁধেছিল তার মাথাতেও।

ছোট থেকেই অত্যন্ত দুরন্ত ছিল সে। অর্ধেক দিন তাকে স্কুলে দেখতে পাওয়া যেত না। বরাবরই সে অন্যদের মুখো ভঙ্গিমা গলার স্বর হুবহু নকল করতে পারতো। খানিকটা বড়ো হতেই স্কুল থিয়েটারে  অংশগ্রহণ করে ছেলেটা। তারপর যাত্রাপালা। এই সময়ের নাট্যকেন্দ্রো ফরম বিতরণ চলছিল। হুমায়ুন ফরিদী ও তারিক আনাম খান এর উদ্যোগে নাট্যকেন্দ্র জন্য যে অডিশন হয়েছিল। সেখানে নাম লিখিয়ে ছিল প্রায় চৌদ্দশ প্রতিযোগী। তাদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয়েছিল সেরা 25। আর এই 25 জনের মধ্যেই ছিল ছেলেটির নাম। পরের 16 বছর নাট্যকেন্দ্র সাথে যুক্ত ছিল সে। নাটকের মহড়া যেখানে হতো সেই জায়গাটা ছিল তার বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে। প্রায়দিনই পুরোটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হতো তাকে। মঞ্চ হয়ে উঠেছিল তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। নিজের খরচ চালানোর জন্য ছেলেটা একটা কোচিং সেন্টারের শিক্ষক পদে যোগ দেয়। এছাড়াও যখন যেমন কাজ পেত করতে হতো তাকে।

আরও পড়ুন:রোগা, কালো, ছেলে নাকি সুপারস্টার হতে পারে না !

কিন্তু এরই মধ্যে সে বুঝতে পারে অভিনয় ছাড়া আর কোন কাজ ঠিকমত সে পারছেনা। সমস্ত কিছু ছেড়ে দিয়ে ছেলেটা পাকাপাকিভাবে নেমে পড়ে অভিনয়ে। পরিবারের লোকেদের মনে হয়েছিল শুধুমাত্র অভিনয় নিয়ে পড়ে থাকলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে না। ছেলেটা কিন্তু অভিনয়ের কাজ চালিয়ে গেল। 1999 সালে ফেরদৌস হাসান পরিচালিত অতিথি নামের একটি টেলিভিশন ড্রামা দিয়ে টিভি ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। এরপর 2004 এ টেলেফিল্ম কেরামের তার অভিনয় যথেষ্ট প্রশংসিত হয়। এই টেলিফিল্মটি ছেলেটার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে নিজের নামের শেষাংশ হোসেন পাল্টে কোরিম করে দেয় সে। টিভির পাশাপাশি সে নাটকেও অভিনয় চালিয়ে যায়। 2004 সালে জয়যাত্রা নামের ফিল্ম দিয়ে ছেলেটা পা রাখে সিনেমার জগতে। এরপর দারুচিনি-দ্বীপ, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বারহ প্রজাপতি, টেলিভিশন, কমলা রকেট এর মতো একের পর এক অসাধারণ সিনেমা জুড়তে থাকে তার প্রাপ্তির তালিকায়।


আজ্ঞে হ্যাঁ, আমরা এতক্ষন যার ব্যাপারে কথা বলছি তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সুপারস্টার মোশারফ করিম (Mosharraf Karim)। একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার, মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এছাড়া 19 তম এভাংকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জালালের গল্প নামক সিনেমাটির জন্য মোশারফ করিম পেয়েছেন বেস্ট অ্যাক্টর পুরস্কার। বর্তমানে তার অভিনীত কোন নাটকের যা বাজেট থাকে তার অর্ধেক সম্মানী হিসেবে পান করিম। যদিও তিনি হেসে বলেন আমি কোনদিনই বলিনি আমাকে এত টাকা দিতে। আমার সম্মানী বাড়িয়েছেন প্রযোজক ও পরিচালকেরা। ভালো থাকুন মোশারফ করিম ভাই, আপনার অভিনয় আমাদের মুগ্ধ করে আরও ভালো কাজ দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

Cradit-UltiMad Media YouTube

আরও পড়ুন: হিরোর পিছনে নাচা ডান্সার থেকে আজ সাউথের সুপারস্টার!

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন