বলিউডের মেগাস্টার আমিতাব বচ্চন এর সাথে মিরিন্ডার বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল তাকে। প্রায় 100 সিনেমায় অভিনয় করার পরেও, তার জীবনে একসময় এমন হতাশা এসেছিল যে অভিনয় ছেড়ে এক সময় ধাবায় রান্নার কাজ করতে হয়েছিল তাকে। ভাবতে পারেন?
ছেলেটা জন্ম হয়েছিল 1963 সালের 6 অক্টোবর
বিহারের দ্বারভাঙ্গায়। বাবা বরাবরই সাংবাদিকতা সাথে যুক্ত থাকলেও, ছেলেটার মাথায় চেপে বসেছিল
অভিনয়ের ভুত। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করার পর সে নেশনাল স্কুল অফ ড্রামায় ভর্তি হয়ে যায়। এখান থেকে পাশ করে বেরোনোর পর তার মনে হয় থিয়েটারে নয় বরং সিরিয়ালেই বেশি সাবলীলভাবে
অভিনয় করতে পারবে সে। চাণক্য নামের এক টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় এর মধ্যে দিয়ে সে
ছোট পর্দায় কাজ করা শুরু করে। 1999 সালের ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপের সময় ESPN Star Sports এর জন্য অ্যাপেল সিং নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করে সে। 1995 তে
ও ডার্লিং ইয়ে হে ইন্ডিয়া সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে ডেবিউ করেছিল সে।
শাহরুখ খান অভিনীত এই সিনেমায় ছেলেটাকে অবশ্য মাত্র মিনিট খানেকের জন্য এক হারমোনিয়াম বাদক এর ভূমিকায় দেখতে পাওয়া গেছিল। SUB TV এর অফিস অফিস নামে একটি ধারাবিহিতে তার অভিনীত শুক্লা জি চরিত্রটি যথেষ্ট খ্যাতি এনে দেয় তাকে। এরপর বান্টি অর বাবলি, আপনা সপ্না মানি মানি তে অভিনয় করেও সে রীতিমত প্রশংসা পায়। তবে ভাগ্য কিছুতেই সঙ্গ দিচ্ছিল না ততদিনে একশরও বেশি সিনেমাতেই তার অভিনয় করা হয়ে গেছিল। অথচ তা সত্ত্বেও কোনো ভালো রোল অফার করছিলেন না কোন পরিচালকই। এই সময় নাগাদ হঠাৎই বাবার মৃত্যু হয়ে যাওয়ায় ছেলেটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সে অভিনয় জগৎ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের এই সুপারস্টার একসময় কোচিং এ পড়াতেন !
মুম্বাই ছেড়ে সে পাড়ি দেয় শুদুর ঋষিকেশে সেখানে এক থাবায় সবজি কাটা এবং চা-অমলেট বানানোর কাজ করতে শুরু করে। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল দিন। সিনেমায় অভিনয়ের শখটা সে পুরোপুরি মুছে ফেলেছিল মন থেকে। কিন্তু হঠাৎই এক ভীষণ অদ্ভুত ঘটনা ঘটে তার সাথে। আচমকা একদিন সেই ধাবায় এসে হাজির হন বলিউডের বিখ্যাত ফিল্ম ডিরেক্টর রোহিত শেট্টি। এর আগে রোহিত শেঠির পরিচালনায় গোলমাল সিরিজের সিনেমায় অভিনয় করেছিল ছেলেটি। তাই প্রাথমিকভাবে পরিচয় দিতেন না চাইলেও রোহিত চিনে ফেলেন তাকে। এত ভালো একজন অভিনেতার এরকম অবস্থা দেখে রোহিতের ভীষণ খারাপ লাগে। সে সময় তিনি অল দ্যা বেস্ট সিনেমাটি নিয়ে কাজ করছিলেন। ছেলেটিকে তিনি একপ্রকার জোর করেই সেই সিনেমায় অভিনয় করতে রাজি করান। সিনেমাটি বক্সঅফিসে খুব একটা ভালো পারফর্ম না করলেও, ছেলেটির ক্যারিয়ারে সেটি মাইলস্টোন প্রমাণিত হলো।
2014 সালে রজত কাপুর পরিচালিত আঁখো দেখি সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করে ছেলেটি জিতে নেয় ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। আমরা এতক্ষণ ধরে কথা বলছি, হাজির থুঁড়ি ছেলে নয় লোকটির ব্যাপারে কথা বলছি তার নাম সঞ্জয় মিশ্রা। মিস ত্যানাকপুর হাজির হো, মাসান, কার্ডভি হাওয়া, এসবের মত অসাধারণ সব সিনেমায় অভিনয় করার পরেও তার যোগ্য সম্মান তিনি পাননি। ক্রিটিকরা তার অভিনয়ের প্রশংসা করলেও, লাইমলাইটের আড়ালেই থেকে গেছেন সঞ্জয় মিশ্রা। তাই তার কথা বলতে গেলে ইংরেজি মে কেতেহে সিনেমায় তার বলা একটা ডায়লগ মনে পড়ে যায় 'হার কাহানি কা হিরো শাহরুখ খান নেহি হোতা হে, কভি কভি আফকি তারা মেরি তারা এক আম ইনসানভি হোতাহে, আপনি কাহানি কা হিরো' ভালো থাকুন সঞ্জায় মিশ্রা।
Cradit-UltiMad Media youtube
আরও পড়ুন:রোগা, কালো, ছেলে নাকি সুপারস্টার হতে পারে না !
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন