কাল থেকে প্রতিনিয়ত একটি সংবাদ শুনতে পাচ্ছেন যে একটি ক্রুজ জাহাজ যেটি মুম্বাই থেকে যাচ্ছিল গোয়া বিনোদন জনিত উদ্দেশ্যে। আর এটির মধ্যে রেভ পার্টি , ড্রাগস , বিভিন্ন প্রোকারের সাইকো জনিত যে উপকরনের প্রোয়জন সেগুলি দেখতে পাওয়া যায়। আর এটির কারনে Narcotics Control Bureau এই ক্রুজে তল্লাশি করে আর সেই ক্রুজটিকে আবারও মুম্বাই এ আনা হয়। 

কিন্তু তারপর সবচেয়ে বড় খবর বেরিয়ে এল,যখন সব থেকে বড় ফিল্মস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই যে সম্পূর্ন ড্রাগ কেজ বা এই মামলাটা কি? কেমন সাজা হতে পারে? আর কি কি Act এ এই মমলা রিজু হয়? 

দিনটি ছিল রবিবার দুপুর 2 টার আসে পাশে খবর আসতে শুরু করে শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান কে Narcotics Control Bureau (NCB) দ্বারা গ্রেফতার করা হয়েছে। যেনে রাখুন NCB তৈরি হয়েছিল 1986 এ। আর এটি তৈরি হয় NDPS Act দ্বারা। যারা ফলে ড্রাগ সংক্রান্ত যেসব কার্যকলাপ হয় দেশের মধ্যে সেগুলো ক নিয়ন্ত্রণ করা এই act এর কাজ। দুপুর 2 টায় শাহরুখ খানের ছেলে কে গ্রেপতার করা হয় তাছাড়া আরও কিছু ব্যাক্তিকে গ্রেপতার করে NCB। আর যে ধারা  লাগান হয় NDPS Act এ অন্তর্গত অনেকগুলি  সেকশন যেগুলি হল 8C, 20B, 27, আর 35। 
আজ সকালের খবর অনুযায়ী আরিয়ান খান সহ আর যে 7 জন ব্যাক্তি তাদের কে জেরা করা হচ্ছে কিন্তু শেষমেশ জানা জাচ্ছে , রেভ পার্টি যেগুলি হয়েছে এগুলির মধ্যে তাদের যোগদান ছিল । আরও যে খবর পাওয়া যাচ্ছে  রেভ পার্টির ভিতরে অর্থাৎ যে ক্রুজ ছিল তার মধ্যে পার্টি হচ্ছিল যেখানে 30 গ্রাম কোকেন(cocain), 21 গ্রাম(Charas), 22 pills of MDMA 5 গ্রাম MD এবং 1.3 লক্ষ টাকা ক্যাশ পাওয়া যায় । এখন প্রশ্ন আসে NCB দ্বারা রেট হলো কি করে ? কিভাবে এনসিবি জানতে পারলো? NCB যে দল তারা কিছু ড্রাগ সাপ্লাইয়ারদের  ধরে তাদের কে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন যে সম্প্রতি কোথায় ড্রাগ গিয়েছে, কোথায় কোথায় ড্রাগ যায় ইত্যাদি ইত্যাদি । তার সেখান থেকেই জানাতে পারে NCB যে মুম্বাইয়ের যে এক‌ ক্রুজ শিপ আছে, যেটি গোয়ায় যাচ্ছে আর ক্রুজ শিপ সাধারণত বিনোদন মুলক কাজে ব্যবহার করা হয়। 10- 15 দিন আপনি ট্রাভেল করতে পারেন এবং যত রকম সুবিধা উপলব্ধ আছে ক্রুজে তার আনন্দ নিতে পারেন। আর এখানে NCB আধিকারিকদের খবর লাগে কিছু ব্যাক্তি এই ক্রুজে চড়তে যাদের দ্বারা ড্রাগ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । 


আর এদের গ্রেপ্তার করা বা ধরা কঠিন হয়ে যায় যখন প্রভাবশালী কোন ব্যক্তি থাকে । যার করনে 20 NCB অফিসার সেই ক্রুজের টিকিট বুক করে নেয় ।  আর টিকিট বুক করে ক্রুজের যাত্রী হিসাবে জাহাজে প্রবেশ করে। তারা ততক্ষন অপেক্ষা করে যতক্ষন  ক্রুজে রেভ পার্টি শুরু না হয় ‌।  এমন না তারা গিয়েই রেভ পার্টি শুরু করে দেয়। তার দেখছিলেন যে কোন ব্যাক্তি দ্বারা এখনে ড্রাগ আনা হচ্ছে। তারা অপেক্ষা করে এবং যখন পার্টি শুরু হয় তখন তারা স্পটেই কিছু ব্যাক্তিকে গেপ্তার করে । আর তারপর জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন আপনি এই ক্রুজ কে ফিরিয়ে নিয়ে চলুন মুম্বাই। আর তারপর সাউথ মুম্বাই টার্মিনালে ক্রুজটি এসে পৌঁছায়। আর যেসকল ব্যাক্তি ধরা পড়েছিলেন তাদের কে নিয়ে যাওয়া হয় কাছের NCB অফিস। তাদের বিরুদ্ধে FIR করা হয় । তাদের ব্লাড টেস্টিং করান হয় যাতে প্রমান জোগাড় করা সম্ভব হয়। 

এখন প্রশ্ন ক্রুজ শিপ এ ড্রাগ পৌঁছাল কি করে? এখন‌ পর্যন্ত তদন্ত এটা উঠে এসেছে যে কিছু যে প্যাসেঞ্জার ছিল উনারা পকেটের ভিতর কাপড়ের মধ্যে কোথাও না কোথাও লুকিয়ে আর এমনভাবে লাগানো হয়েছে কাপড়ের মধ্যে যে বাইরে থেকে বোঝা না যায়। এক ব্যক্তি তার হিল জুতার এর মধ্যে হিলের ওখানে ড্রাগ লুকিয়ে ছিলেন। যাতে সিকিউরিটি চোখে ফাঁকি দেওয়া যায়। এখন প্রশ্ন সিকিউরিটি দায়িত্বে কে থাকে। যেমনটি আপনি এয়ারপোর্টে দেখবেন, ট্রেন স্টেশনে দেখবেন। তাহলে এখানে সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকে কে, আপনি যখন ক্রুজে উঠতে যাবেন ওখানেও গেটে চেকিং এর জন্য CISF এবং Bombay Port Trust দেখতে পাবেন মুম্বাই তে । যখানে তাদের দেখার দায়িত্ব কোন ভুল বস্তু  বহন করা হচ্ছে কিনা সেটা দেখা। 
এখানে যে Waterways Leisure Tourism এর অন্তর্গত Cordelia ক্রুজটি চলে তাদের কোন রকম দায়িত্ব থাকে না। সাথে সাথে যত জন প্যাসেঞ্জার যাত্রা করেছিলেন তাদেরকে Welcome brief দেওয়া যাতে পরিষ্কারভবে উল্লেখ থাকে আপনার কি করনীয়, আর কি করণীয় নয় ক্রুজে। আর এটি পরিষ্কারভবে লেখা ছিল যে ক্রুজে নারকো‌টিক/ ড্রাগ অনুমোদিত নয় ।


এখন একটাই প্রশ্ন এই মামলায় জড়িত কোন ব্যাক্তির শাস্তি  কেমন হতে পারে? এখানে যে NDPS Act, 1985 যেটা রাজীব গান্ধীর সময় ইম্প্লেমেন্ট করা হয়। যার মধ্যে সেকশন 8(c)। সেকশন 8(c) তে বলা হয়েছে , আপনি দেশের মধ্যে কোন রকমের নার্কোটিক উপকরন রোপন করতে পারবেন না, উংপাদন করতে পারবেন না, প্রসেস করতে পারবেন না, বিক্রি করতে পারবেন না, ওয়ারহাউজ, ট্রান্সপোর্ট কোন‌ কিছুই করতে পারবেন না। এটির উপর সম্পূর্ণভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এটা ঠিক ঔষধের করনে কিছু ড্রাগ জাতীয় জিনিসের ছাড় দেওয়া আছে । তবে বিনোদনের জন্য এগুলিকে ব্যাবহার করতে পারবেন না। যেখানে শাস্তির কথা আসে এটাকে তিন ভাগে ভাগ করতে‌ পারেন। যেখানে খুব কোম পরিমাপে এমন উপদান পাওয়া যায় সেটা small quantity। আর সব থেকে সর্বোচ্চ যেটা হয় তাকে commercial quantity। আর এখানে মাঝে মাঝে  উপাদান পাওয়া গেলে যেখানে small quantity থেকে বেশি , আবার commercial quantity  থেকে কম । এখন যদি কথা বলি small quantity নিয়ে তাহলে ম্যাক্সিমাম 6 বছর সংশোধনাগারে কাটাতে হতে পারে। যার উপর জরিমানা  লাগান হতে পারে । তারপর যদি medium quantity কথা বলি তবে  6-10 বছর সাজা কাটতে হতে পারে এবং 1 লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।  এখানে বলে দি শারুখানের ছেলে আরিয়ান খান এই ক্যাটাগরিতে আটক করা হয়েছে। যেখানে 6- 10 বছর সাজা কাটতে হতে পারে।  আর এর পর যেটা সর্বচ্চ ক্যাটাগরি হয় commercial quantity তে পাওয়া গেলে অর্থাৎ প্রচুর মাত্রায় ড্রাগ পাওয়া গেলে 10 বছর তো কারাদণ্ড হবে সেটা 20 বছরো বাড়তে পারে । এমন ধরনের শাস্তি পেতে হতে পারে ।

এখন এটা জানা দরকার এই রকম ক্রুজ মিসাইল গুলি পার্টি অর্গানাইজ করতে কোন রকম লাইসেন্সের প্রয়োজন পরে কি? হ্যাঁ অবশ্যই পড়ে। এখানে ডাইরেক্টর জেনারেল অফ শিপিং Amitabh Kumar এনার দ্বারা এই বয়ান আসে এই যে ক্রুজ শিপ ছিল Cordelia  এর কাছে লাইসেন্স ছিল না। এখন দেখার এর উপরো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা। তবে  ডাইরেক্টর জেনারেল  এটাও জানান এনারা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। 
 
এখানে অনেক রকমের বিভ্রান্তি আছে যে লাইসেন্স কিসের জন্য? কি ক্রুজ শিপ চালানোর জন্য যদিও সেটা নয় তবে পার্টি বা আমোদ-প্রমোদ , বিনিদন‌ জনিত কোন লাইসেন্স তাদের ছিল না। এসব ব্যাপার দেখতে Cordelia এর‌ CEO  দ্বারা বিবৃতি  জারি করা হয়, যা ঘটছে‌ তার মধ্যে ‌‌‌‌‌‌তারা কোন ভাবে জড়িত নয়। এ‌ এক প্রকারের ইভেন্ট ছিল ‌‌যেটা দিল্লি বেজ‌ একটি কোম্পানি দ্বারা আয়োজিত করা হচ্ছিল বিনোদনের জন্য। আর Cordelia শিপের কর্তব্য তারা ফ্যামেলি নিয়ে যাত্রা করা ব্যাক্তিদের বিনোদন প্রদান করা। আর  আমাদের এমন সংস্কৃতিকে কখন‌ সমর্থন করি না। এখানে cordelia নিজেই সাইট হয়ে যায় আর তারা জানায় তারা কন ভাবেই জড়িত নয়। 


তবে‌ এখনে শেষমেষ NCB  বলে , আমরা যাই পদক্ষেপ নেই। আমরা এটা দেখি‌ নি ওখানে কে বা কারা আছে । কোন ফিল্মস্টার এর ছেলে আছে। আমাদের এটাই  করণীয় ছিল , এমন ধরনের ঘটনাটি দেশের মধ্যে না হতে দেওয়া। যদি আমাদের কাছে কোনো তথ্য আসে তাহলে সমানভাবেই আমরা তার প্রতি পদক্ষেপ করব। হয়েছে কি, এখানে এত বড় ফিল্মস্টারের ছেলের নাম সামনে এসেছে যে কোথাও না কোথাও এটা হাইলাইট হয়ে গিয়েছে। অন্যথায় এমন ধরনের রেট হামেশাই হয়ে থাকে। কিন্তু যখনই এমন প্রভাবশালী নাম সামনে আসে তখন সেই ঘটনাটি গুরুত্ব পায়, দেখা যাক এরপর কি হয়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন