আফগানিস্তান_স্ট্র্যাটেজিক_ডিলেমা
============================
স্টেটস আর ইউনাইটেড নেশন আফগানিস্তান থেকে মিলিটারি বেস উইথড্র করে নেওয়ার সাথে সাথে সেন্ট্রাল এশিয়াতে ব্যাপক একটা পাওয়ার গ্যাপ তৈরি হবে যা ইমিডিয়েট এক্সপোজার হবে পুনরায় আফগানিস্তানে মুজাহিদ উত্থান আরো ব্যাপক মাত্রায় এবং সেন্ট্রাল এশিয়ায় ইসলামিক স্টেটস এর মত রিসারজেন্স। এর ফলে সেন্ট্রাল থেকে সাউথ ইস্ট এশিয়ায় রেডিক্যাল ইসলামিক ইন্সপিরেশন বৃদ্ধি পাবে ,যার পরবর্তী অধ্যায় হবে ভারতের মতো সিউডো সেকুলার দেশে সিভিল ওয়ার, টেরোরিস্ট ইনফ্লাক্স , ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এর ক্ষতি ও অর্থনৈতিক স্লো ডাউন। ভারতের কাছে এই ঘটনা একটি স্ট্র্যাটেজিক ডিলেমা। মুজাহিদ দের সাথে ভারতের প্রশাসনের সরাসরি কোনো কনফ্লিক্ট নেই, সেটা তালিবান স্টেটমেন্ট ও স্বীকার করেছে কিন্তু বিগত বছরগুলোতে ভারতের আফগানিস্তান সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় একটা কনফ্লিক্ট ভবিতব্য।
ইতিহাসের পাতা থেকে- আফগানিস্তান বিগত একশো বছর ধরে বড় বড় শক্তিগুলোর কাছে বিভীষিকা, প্রথমে ব্রিটিশরা ব্যর্থ হয়েছে আফগানিস্তান কে মুষ্টির মধ্যে নিতে, ব্রিটিশরা চলে গেলে স্টেটস আর সোভিয়েত রাশিয়ার কোল্ড ওয়ারের সময় রাশিয়া ব্যর্থ হয়েছে মুজাহিদ দেরসাথে লড়ে আফগানিস্তান কে সোভিয়েত সংঘের অন্তর্ভুক্ত করতে, কারণ আমেরিকা এই মুজাহিদ দের বানিয়েছিল সোভিয়েত কে আটকানোর জন্য, সোভিয়েত ব্যর্থ হলে আমেরিকার কাছে তালিবান রা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে ওঠে, এবং পরবর্তীতে তাই আমেরিকার রাষ্ট্র সংঘের সাথে মিলে মিলিটারি বেস বানিয়ে সেনা ডেপুট করতে হয়েছে আফগানিস্তানে ডেমোক্রাসি ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু প্রায় দুই দশক ধরে আর্মি ডেপুট করে রাখার পর আমেরিকা সেনা তুলে নিচ্ছে যার দুটো কারণ :-
1) আমেরিকা এই সৈন্য পালনের খরচ ও অতিরিক্ত ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে চায় কারণ অতিরিক্ত ডিফেন্স স্পেনডিং স্টেটস এর ইকোনোমিকে ইমব্যালেন্স এ নিয়ে যাচ্ছে, এর ফলে সিভিল সোসাইটির কটাক্ষের মুখে সরকার কে পড়তে হয়, যার কোনো প্রপার এক্সপ্ল্যানেশনে সরকার দিতে পারে না জনগণকে, যার রাজনৈতিক ইমপ্যাক্ট দলের ওপর এসে পড়ে এবং ফাইনালি ইলেকশন এ তার প্রভাব আসে।
2) স্টেটস এর ফরেন পলিসির একটি সূক্ষ আইডিয়া হলো ইসলামিকওয়ার্ল্ড কে সাম-দান-দন্ড-ভেদ ইত্যাদির দ্বারা সর্বক্ষণ ডায়নামিক ও উত্তেজিত করে রাখা , এর ফলে কয়েকটা জিনিসে ইমপ্যাক্ট আসে-
◆বিশ্ব বাজারে তেলের দাম
◆ আর্মস ট্রেডিং
◆ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে প্রভাব।
◆জিওপলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স
◆ ওয়ার ইকোনমি।
◆ব্যালেন্স অফ পাওয়ার।
আপনি দেখে থাকবেন মধ্য প্রাচ্যে শেষ 75 বছর ধরে কোনো একটা সময় কখনোই মধ্য প্রাচ্য থেকে সেন্ট্রাল এশিয়ার মুসলমান দেশ গুলো কখনোই একসাথে শান্তিপূর্ণ ভাবে ছিল না, কোনো না কোনো সময় কেউ না কেউ কনফ্লিক্ট এ রত ছিল, এবং এই প্রত্যেকটা কনফ্লিক্ট এ আমেরিকার অবদান খুব গভীরে ছিল।
এহেন পরিস্থিতিতে , যা ঘটতে পারে তা প্রায় আতঙ্কজনক। আমেরিকার পিছু হটা রাশিয়া কে আরো এলার্ট করবে বিশেষত রাশিয়া একমাত্র দেশ যে আমেরিকার প্রত্যেক পদক্ষেপ খুব সিরিয়াসলি নেয়, কারণ সেন্ট্রাল এশিয়ায় ইসলামিক এক্সট্রিমিজম বাড়বে ফলে রাশিয়া আরো বেশি কনসার্ন্ড হবে।
এদিকে ভারতের ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে আফগানিস্তান হয়ে সেন্ট্রাল এশিয়ায় বাণিজ্য করার স্বপ্ন একপ্রকার ধূলিস্যাত হয়ে গেল, আফগান পার্লামেন্ট বানিয়ে মোদী ভারতের যে বন্ধুত্ব পূর্ণ ছবি আফগানিস্তানের কাছে তুলে ধরেছিল তার দফা রফা হলো। সেন্ট্রাল এশিয়ার দেশ গুলোতে তেল নিয়ে ONGC র মতো সংস্থা যে তেল বেস বানানোর প্ল্যানিং করছিল তার দারুন ক্ষতি হবে, এসব ক্ষেত্রে সরকারের ওভার্সিজ ফান্ডিং প্রায় জলে গেল। আফগানিস্তান বহু ক্ষেত্রে ভারত কে সমর্থন করে তীব্র পাকিস্তান বিরোধী স্ট্যান্ড নিয়েছিল কিন্তু এখন নিজের ঘর সামলাতেই আফগানিস্তান ফেল হয়ে যাবে।
তবে এই ক্ষতিকে একসেপ্ট করে নিয়ে আফগান আর্মিকে ভারতের নি:শব্দে অস্ত্র , প্রযুক্তিগত ও ইন্টেলিজেন্স এর সহায়তা দিয়ে যেতে হবে ঠিক যেমনটা বেলুচিস্তানের ইনসার্জেন্ট এ ভারতের ভূমিকা আছে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও ভারতের ভূমিকা আফগান প্রশাসনের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ , এবং ভারতকে তা নিজের স্বার্থ বজায় রাখতে করতে হবে যা একপ্রকার ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ।
----জিত ঘোষ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন