মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সন্ধ্যার পরে কিছুক্ষণ রাইটার্সে বসে কাজ করতেন। একদিন অফিস ছেড়ে বেরনোর মুহূর্তে এক সাফাইকর্মীর কাশির আওয়াজ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী থমকে দাঁড়ালেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফাইকর্মীকে ডেকে পাঠালেন। সাফাইকর্মী ভয় পেয়ে অনুনয় করল,"স্যার চাকরিটা খাবেন না।" মুখ্যমন্ত্রী তাকে বললেন,"চাকরিটা পরে,আগে প্রাণে বাঁচো।" মুখ্যমন্ত্রী সার্জেন্টকে নির্দেশ দিলেন ,"একে এখনই যাদবপুর টিবি হাসপাতালে পাঠান,সুপারকে বলুন ভর্তি নিতে। ওর গ্যালপিং টিবি হয়েছে। নির্ধারিত মেডিক্যাল টেস্টেও একই অসুখ ধরা পড়ল। মুখ্যমন্ত্রী তার জন্য ওষুধ বলে দিলেন। দূর থেকে কাশির আওয়াজ শুনে একজন মানুষের ঠিক কি রোগ হয়েছে বলে দিতেন মুখ্যমন্ত্রী। জানেন কে সেই মুখ্যমন্ত্রী? তিনি হলেন পশ্চিমবঙ্গের রূপকার ডাঃবিধানচন্দ্র_রায়।
তখন সকাল দশটা। রাইটার্সের সামনে ত্রস্ত সার্জেন্ট,কনস্টেবল সকলে। এখুনি ঢুকবে সি এম-এর গাড়ি। আজ কোন একটা জায়গা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন,তাই দেরী। নইলে আরও আগেই এসে পড়েন।
দেখতে দেখতে হুটার বাজিয়ে পাইলট কার আর তার পিছন পিছন লালবাতির গাড়ির সারি এসে দাঁড়াল মহাকরণের গেটে। গাড়ি থেকে নেমে সবে পা রেখেছেন সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরা মুখ্যমন্ত্রী। স্যালুট নিতে নিতেই পিছনে একটা হৈচৈ। মোটা ফ্রেমের চশমার পিছনে থাকা চোখ দুটো একটু কুঁচকোলো। ঘাড় ঘুরিয়ে কি হয়েছে দেখবার আগেই তাঁর সামনে হাজির শীর্ণকায় শিশু কোলে নিয়ে এক যুবতী। সার্জেন্ট,পুলিশ সকলেই হতভম্ব। যুবতী মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে পড়ে কাঁদতে লাগল,"আমার বাচ্চাটাকে বাঁচান।..."
ভীষণ রেগে সার্জেন্টদের ধমকে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী,"তোমাদের বরখাস্ত করা উচিত।" বলেই গট্ গট্ করে স্পেশাল লিফটে চড়ে উপরে চলে গেলেন। ধমকাতে ধমকাতে প্রায় ঘাড়ধাক্কা দিয়ে সেই যুবতীকে পুলিশ রাস্তার অন্যপারে নিয়ে যাচ্ছে,সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলেন মুখ্যমন্ত্রী। সার্জেন্টদের হুকুম দিলেন,"ডেকে নিয়ে আসুন ওদের।" সার্জেন্টরা আবার ধরে আনল তাদের। এবার সাথে যুবতীর স্বামীটিকেও। তারা ভয়ে জড়সড় - এবার নির্ঘাৎ গারদে পাঠাবে! কি কুক্ষণেই না ওরা লোকের কথা শুনে এ কাজ করেছিল।
কিন্তু এই মানুষ তো একটু আগের সেই মানুষ নন। একেবারে অভয় বরদ মূর্তিতে দাঁড়িয়ে লম্বা মানুষটি। এখন তিনি আর প্রশাসক নন,চিকিৎসক। বাচ্চাটার পেট টিপে পরীক্ষা করলেন ঐখানেই। তারপর সার্জেন্টের কাছে স্লিপ চেয়ে খসখস করে ওষুধ লিখে দিলেন তাতে। বাচ্চাটির বাবাকে বললেন,"এই ওষুধটা নিয়ে যাও এখানকার ডিসপেনসারী থেকেই,টাকা দিতে হবে না।" ফিরে যেতে গিয়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন,"আর হ্যাঁ,কিরকম থাকে এক সপ্তাহ পরে জানিও।" গলায় কপট গাম্ভীর্য এনে বললেন,"এখানে আসতে হবে না,আমার বাড়িতে যাবে। প্রতিদিন সকালে একঘন্টা করে রুগী দেখি বাড়িতে।" বলে লিফটের দিকে এগোলেন। স্বামী-স্ত্রী শুধু নন উপস্থিত সকলের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
ইনি সেই মুখ্যমন্ত্রী (Second Chief Minister) তথা পশ্চিমবাংলার জনপ্রিয় ডাক্তার যে কিনা রোগীকে দেখে বলে দিতেন তার কি রোগ ?
এই মানুষটিকেই একদিন ডাঃ নীলরতন সরকার তার মেয়ে কল্যাণী সরকারের সাথে বিয়ে দিতে চায়নি, কেননা এই মানুষটির নাকি ওনার মেয়েকে বিয়ে করার যোগ্যতা ছিলনা। তাই এই মানুষটি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় এক শহরের (city) প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম দেন কল্যাণী (kalyani)।
সত্যিই ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় অনবদ্য অসামান্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন
সংগৃহীত

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন