এই মুহূর্তে ভারতের সবথেকে বড় কনসার্ন - মাত্র 400 কিলোমিটার দূরে বসে থাকা তালিবান
জানিনা কেউ জানেন কিনা, পরশুদিন তালি.বান একটা নোটিশ দিয়েছে উর্দুতে, তাতে বলেছে "আফগানদের বিভিন্ন গ্রামের 15-45 বছরের সমস্ত অবিবাহিত এবং বিধবা মেয়েদের ওদের হাতে তুলে দিতে হবে যাতে ওরা ওদের সৈনিকদের প্রয়োজনীয় 'খাদ্য' সরবরাহ করতে পারে"।
যারা যারা এখনো ভাবছেন তালি.বান তো বহুদূরে আছে ভয় নেই, তাদের জেনে রাখা ভালো, এই তালি.বানদের আরেক ভাই আল.কায়েদা আমেরিকার নাকের ডগায় বসে 9/11 এর ছক কষে 2947 জনকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে শেষ করে দিয়েছিল। 2947 জন, 4 জনের পরিবার হিসেবে ধরলে 12000 এর কাছাকাছি জীবন ভেঙে দেওয়া হয় মাত্র কয়েকটা প্লেন হাইজ্যাক করে দিয়ে।
9/11 এর পরে আমেরিকা প্রথম যে স্ট্রাইক করে আফগানে, তাতে আমেরিকার 12 জন সৈন্য সাথে পেয়েছিল আব্দুল রশিদ দস্তুম নামের একজন আফগান নেতাকে যে দীর্ঘ আফগান যুদ্ধ পুরোটাই লড়েছিল কেবলমাত্র দেশ থেকে তালি.বানদের তাড়াবে বলে, পরে এই দস্তুমই 2020 অব্দি আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকেন।
কিন্তু নতুন বাবা বিডেন নির্বাচনেই দাবী করেছে যে তারা ক্ষমতায় এলে তালি.বান এরিয়াগুলো থেকে আমেরিকার ফোর্স সরিয়ে নেয়া হবে। যেমন প্রতিশ্রুতি তেমন প্রতিশ্রুতি পালন হবে এবার। রইলো অস্ত্র, চললো ভোলা। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তাতে খুব সম্ভবতঃ দস্তুম নিজেও হয়তো এই দেশটাতে থাকলে এই নতুন করে থ্রেটের উত্তাপ থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে বলে মনে হয় না।
ভারতকে নিয়েই ভয়টা কেন?
ভারতকে বাদ দিয়ে তালি.বানের সামনে পূর্বদিকে কেউ নেই এখন। পাক চীনের ভিক্ষা চেয়ে চেয়ে ধ্বং.সই প্রায়। চীনেও ওরা ঢোকার সাহস নেবে না কারণ চীন ওদের সামনে এতই স্ট্রং যে ওরা ঢুকতে চাইলে চীন ওদের দুই থেকে তিনবার রিপিট করে করে বলে বলে শেষ করে দেবে। উত্তরে রাশিয়ার দিকে ওরা যাবে না কারণ পুতিন এমনই লোক যে তালি.বানের সাথে বৈঠক করে মাঝে মাঝেই।
যেহেতু ইন্দিরার সময়ে রাশিয়াকে তার স্বপ্নের রেশম রাস্তা বানাতে দেয়নি আমেরিকা, তাই তালি.বান দিয়ে আমেরিকাকে কেস খাওয়ানোর জন্যে রাশিয়া ভুলেও তালিবানকে চটাবে না। এছাড়াও রাশিয়ায় নিজে থেকে এটাক করা একজনও রাশিয়া থেকে জিতে ফিরতে পারেনি, বিশ্ব ইতিহাসে এটাই হয়ে এসেছে।
সামনে একমাত্র যে ল্যান্ড ওরা আজো কব্জা করতে পারেনি সেটা হলো,ভারত।যেখানে বিরোধীরা মাঝে মাঝে বিদেশি ফান্ডিং পেয়ে শক্তিশালী প্রোপাগান্ডা করে, যেখানে অর্থনীতির দিকে করোনার আগের থেকেই ভালো করে মন দেওয়া হয়নি, যেখানে সামান্য কিছু টাকায় বিক্রি হয়ে মানুষ ভোটের মাধ্যমে সরকার বদলে দিতে পারে, যেখানে এখনো বর্ডার সিল না হয়ে জমি জটে আটকে আছে, যেখানে এখন সীমান্তের দিকের জেলাগুলোর ডেমোগ্রাফি ওদের অনুকূল হয়ে যাচ্ছে, যেখানে এখন কয়েক কোটি রো.হিঙ্গা এবং তারা রীতিমতো ছোট স্তরের ক্রাই.মে হাত পাকিয়ে নিয়েছে।
তালিবান এলে কী হবে? ("তালিবান এলে" মানে পুরো ভারতে ঢুকে যাওয়া না, ভারতের ভেতরে স্ট্রং স্লিপার সেল গড়ে তোলা, ও জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট হামলা করা নিত্যনৈমিত্তিক ভাবে, এটার কথা বলা হয়েছে)বিস্তারিত লিখতে চাই না, দুটো কারণে,
● বাংলায় লেখা বাঙালি নিজেও ঠিক করে পড়বে না, ভাবে আমি অতিরিক্ত পাকা, বেকার ভয় পাই, এসব ইত্যাদি প্রভৃতি।
● আর বাঙালি এখন এতটাই করাপ্ট জাতি যে পয়সা পেলে নিজের মানুষদের হাঁড়িকাঠে ঢুকিয়ে দিতেও বেশি ভাববে না। তাই বাঙালি নিজে বুঝুক। তবে ছোট করে এটুকুই বলতে পারি, তালিবান করোনা ভাইরাসের থেকে কয়েক লক্ষ্য গুন বেশি ক্ষতিকারক ও অনেক বেশি গোপনে ছড়িয়ে যায়।
বাংলার জন্যে কীভাবে কী হতে পারে?
লাস্ট আট মাসে এই রাজ্য থেকে সব মিলিয়ে প্রায় 16 জন ধরা পরেছে যারা এক্টিভলি জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল।
খাগড়াগড় মডিউল প্রকাশ্যে এসে যাওয়ায় থ্রেট বুঝে ভারত সরকারকে গোটা দেশের পাসপোর্ট সিস্টেমটাকে নতুন করে সাজাতে হয়েছে।এখনো বহু জায়গায় বর্ডার সিল করা হয়নি।
পুলিশের মধ্যেই কয়েক অযুত (10 হাজারের হিসেবে) পার্মানেন্ট শূন্যপদ খালি। আর বাঙালি এসব না ভেবে কে পরকীয়া করেছে আর কার বাচ্চার বাবা কে সেসব খবর খাচ্ছে।বাংলা সবকিছুই যখন নিজে ইচ্ছেয় চায় তখন নিজের ভোগান্তিও নিজেই বুঝে নিক। নিজের ভালো গাধাও বোঝে।
আরও পড়ুন:খাদ্য সঙ্কটের কারণে উত্তর কোরিয়ায় মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে, প্রতি কেজি কলা বিক্রি হচ্ছে 3000 টাকায়
দেশের আল্ট্রা লেফ্ট, সফ্ট লেফ্ট, বাকী মুক্তমন ও মাইনরিটি লোকজনের কী অবস্থা?
● আল্ট্রা লেফ্টরা খুব আনন্দিত যে তালিবান জেগে উঠছে, এবার আমেরিকার "কালোহাত গুঁড়িয়ে দেবে" টাইপের কিছু একটা হওয়ার আশায় আছে।
● সফ্ট লেফ্টরা এরকম কিছু না চাইলেও আল্ট্রা লেফ্টদের ব্যাপারে বেশ নরম হয়েই আছে, অরিহাট "তালিবান এলে লোকাল অর্থনীতি ভালো হবে, পেট্রোলের দাম কমবে" এরকম একটা অবস্থা।
● মুক্তমনারা এখনো বুঝতেও পারছে না তালিবান এলে সবার আগে তাদের সবথেকে বেশি কষ্ট, কালো জোব্বা পরে ঘুরতে হবে নাহলে যেখানা তারা উইকেন্ডে সবথেকে বেশি ভিড় করে সেই মল বা রেস্টুরেন্ট গুলোই এদের টার্গেট হয়ে যাবে।
● মাইনরিটি ভাইবোনদের একটা বিশাল অংশ বুঝছে না, তালিবান এলেও তাদের স্ট্যাটাস ওদের কাছে সেই কুলিমজুর বা ঠিকে শ্রমিকের থেকে বেশি কিছু হবে না। বরং এখন তারা সুখে শান্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে দিনে দুইবেলা গালাগাল করে যে আরামে বেঁচে আছে, ঘরের পাশে জঙ্গিরা থাকতে এলে দেশের স্বরাষ্ট্র দফতর এবং জঙ্গি দুইপক্ষের মাঝে পরে সবথেকে বেশি ক্ষতি তাদেরই হবে।
আপনার আমার কী করণীয়?
আপনি আমি যে যে মতের অধিকারী, আসুন দেখি তালিবান এলে আমার মত লোকজনদের এমনিই তো শেষ করে দেবে লুকিয়ে চুরিয়ে আর আপনাদের মত এলিটদেরকে কাকে কীভাবে বাঁচতে দেয় সেটা দেখে নেবেন নাহয়।
আমি তো কী কী হতে পারে বুঝে যাচ্ছি, আমি পপকর্ন নিয়ে বসে দেখি না কি হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন