আজকের সময় দাঁড়িয়ে ভারতের সবথেকে চিন্তার কারণ হলো তালিবান লাইন অফ কন্ট্রোল এর ঠিক 400 কিলোমিটার দূরে । তো তেমন কোন কারণ নেই আজ থেকে দু তিন মাস পরে তালিবান কাশ্মীর বর্ডার দেখা দিতে পারে এবং বিক্ষিপ্তভাবে ফায়ারিং এর খবর পাওয়া যেতে পারে। তবে এটা না যে ইন্ডিয়া শুধুমাত্র একটি দেশ যাদের তালিবানদের নিয়ে সবথেকে বেশি চিন্তিত। ইতিমধ্যেই ইসরাইল ও এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। যদি আফগানিস্তানের তালিবান পুরোপুরি দখল করে নেয়, তবে এর থেকে শক্তি সঞ্চয় হতে পারে হামাস এবং হিসবুল্লার মতো জঙ্গী সংগঠন গুলির। আর সেখানে ইসরাইলের উপরও হতে পারে বারবার আক্রমণ।
আফগানিস্থানে প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ। আর সেখানে তালিবান একের পর এক রাজ্য দখল করছে। তালিবান এমন একটি সন্ত্রাস যে তাদের নেই কোন সংবিধান তাদের, কোন আদর্শ নেই , ইসলামিক শরীয়ত আইন কায়েম করতে চায় আফগানিস্থানে। আর এর খুব বড় আশঙ্কা আছে ইসলামিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসরাইলের উপর হামলা বাড়তে পারে। 9/11 এর মত আতঙ্কবাদী হামলা হতে পারে USA এর উপর। তালিবান ইন্ডিয়ার বর্ডারের পাশে যে তাজিকিস্তানের বর্ডার আছে ওখানে রাশিয়ার সেনা টহল শুরু হয়ে গিয়েছে। ইন্ডিয়া এখানে চেষ্টা করেছিল যে রাশিয়ার সাথে সহযোগ হয়ে আফগানিস্তানের উত্তর দিকের এরিয়ায় সুরক্ষা যাতে আরো বাড়ানো সম্ভব হয়। এটি যাতে তালেবানের হাতে না চলে যায়।
সেইজন্যে ইন্ডিয়ান বিদেশমন্ত্রী রাশিয়া গিয়েছিলেন এ বিষয়ে আলোচনা করতে। কিন্তু রাশিয়ার তরফ থেকে হঠাৎ একটি স্টেটমেন্টে জানায় রাশিয়া থাকতে সাথে কোনরকম মেয়েটারই টাই আপ করবে না আফগানিস্তান এই সমস্যা নিয়ে। এই আর্টিকেলের ফলে সরাসরি রাশিয়া ভারতের সাথে যৌথ উদ্যোগে আফগানিস্থানের সীমানাবর্তী অংশে নজরদারি বাড়াতে তৎপর নয় তা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। তার মানে এই দাঁড়ায় রাশিয়া সাথে ইন্ডিয়ার সেনার কোন টাই আপ হবে না। তাছাড়া রাশিয়ার কোথায় সব থেকে আশ্চর্যজনক কথা হল। দা টাইমস অফ ইন্ডিয়ার আর্টিকেল অনুয়ায়ী ইন্ডিয়া কে স্বীকার করতে হবে যে তালিবান আফগানিস্তানের একটি অংশ একটি সততা। রাশিয়া এও বলে ইন্ডিয়া তার নিচের টা দেখুক। রাশিয়া থেকে খুব বেশি আশা না করাই ভালো। যে আফগানিস্তান ইস্যু নিয়ে আমরা খুব বেশি পদক্ষেপ করব।
এখন এটা চিন্তা বিষয় আফগানিস্তানের সাথে রাশিয়াতে বর্ডার শেয়ার করে না তবে রাশিয়া তার নিজের সেনা কেন আফগানিস্তানের বর্ডারে মোতায়েন করেছে? যেখানে রাশিয়া বলছে আমরা এখানে কোন সেনার সহযোগিতা চাই না এবং যেখানে সরাসরি রাশিয়া বলছে যে ভারতের সাথে কোন রকম সহযোগিতা করবেন না তালিবানকে আটকানোর জন্য।
রাশিয়া এর কারণ দেখিয়ে বলেছে, এই পুরো স্টেটমেন্ট হলো ( Russian Deputy Head of Misson Roman in India ) আমাদের কাছে অভিজ্ঞতা আছে আফগানিস্তানে নিয়ে, তবে আমরা কোনরকম বিদেশি সেনার সহযোগিতা দরকার নেই। আমরা যে বর্ডার এর পাশে সেনা জড়ো করছি তার কারণ হল। Collective Security Treaty Organisation (CSTO) এর অন্তর্গত আমাদের যে দায়িত্ব সেটি আমরা পূরণ করছি মাত্র। CSTO হলো এ এক প্রকারের রাশিয়ার নেটো, যেটির মধ্যে অন্তর্গত আছে 6 টি দেশ। আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজিকিস্তান, কার্গেজস্তান, রাশিয়া এবং তাজিকিস্তান। এই দেশ গুলির মধ্যে কোন দেশে আক্রমণ হলে তাকে সেনা দিয়ে সাহায্য করে রাশিয়া। একসাথে 6 টি দেশের উপর আক্রমণ হয় তাহলে রাশিয়া সেখানে সেনা দিয়ে সাহায্য করতে পারে। কারণ CSTO সফল করতে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত সেনা রাশিয়ার কাছে আছে।
আরও পড়ুন:হতবাক এবং বোমা বিস্ফোরণে রাগান্বিত, তদন্তে যোগ দেবে চীন !
রাশিয়ায় ও বলে পাকিস্তানকে সমর্থন করে যদি তালিবান কাশ্মীর আক্রমণ করে তবে এমন না রাশিয়া তাদের বাধা দেবে। দ্যা প্রিন্ট এর আর্টিকেলে রাশিয়ার কথায়, তালিবান কে সমর্থন করতে হবে ইন্ডিয়াকে। আর রাশিয়া তার উত্তর দিতে গিয়ে বলেছেন এখানে ইন্ডিয়ার ভাবনায় তালিবান একটি ইসলামিক দেশ। তালেবানকে যদি তুলনায় আনতে হয় তবে আইএস আইএস এর সাথে নয়, এদেরকে তুলনা করুন হিজবুল্লাহ সাথে । আপনারা হয়তো জানেন লেবাননে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ আছে যার নাম হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ দেখতে পাবেন লেবাননের পার্লামেন্টেও। এদের গভমেন্ট নীতি-নির্ধারণেও এদের ছায়া দেখতে পাবেন। আর এমন নয় হিজবুল্লাহকে আমেরিকা সহ অন্যান্য দেশ তাদেরকে আতঙ্কবাদী সংগঠন ভাবে। তবে এটা ঠিক হিজবুল্লার মধ্যেই কিছু কিছু সেনা সংগঠন আছে যাদেরকে আমেরিকা আত্মবাদী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে। আর এখানে রাশিয়া তালেবানকে হিজবুল্লাহ সাথে তুলনা করছে এবং তাদের সাথে কথাবার্তা বলে সমস্যার সমাধান করতে বলেছেন। রাশিয়ার উপর এমন কোন আস্তানা রাখতে যে তারা আফগানিস্তানের উপরে বোমা বর্ষণ করবেন বা আফগানি তালিবানদের রুখতে কোন পদক্ষেপ নেবেন।
এখানে একটাই কথা তবে রাশিয়া কেন এমন পদক্ষেপ নিল ও ভারতের এই মতামতকে কেন সজোরে প্রত্যাখ্যান করলো! তবে কি রাশিয়ার থেকে যুদ্ধ অস্ত্র বা যুদ্ধ সামগ্রী কেনা কম হয়ে গিয়েছে ইন্ডিয়ার সেইজন্য কি রাশিয়ার এমন বিরূপ মন্তব্য। তবে এখানে যেহেতু আমেরিকার সাথে আফগানিস্তানে একটি খারাপ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সেজন্য রাশিয়া চাই আফগানিস্তানের সাথে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে। তার ফলশ্রুতি হবে রাশিয়া তালিবানদের নানা রকম অগ্নি অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে এবং তালিবানি আক্রমণ থেকে রাশিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে এখানে যদি তালিবান বেশি সক্রিয় হয়ে যায় তবে CSTO এর জন্য রাশিয়া তার 6 দেশের সীমনের রক্ষা করবে। তবে ভারতেরও দেখার বিষয় যদি রাশিয়ার সাথে কথোপকথন করে কোনরকম সমস্যার সমাধান না হয়। তবে ইন্ডিয়াকে ইজরাইল উপর নির্ভরশীল হওয়া দরকার। হোক ইজরাইল ভারতের থেকে বেশ দূরত্বে অবস্থান করে তবুও একমাত্র ইসরাইল ভারতের পাশে দাঁড়াতে পারে এই ইসলামিক তালিবানদের রুখতে। কেননা তালিবানের মদতে হামাস আরো সক্রিয় হবে এবং ইন্ডিয়া কাশ্মীর সমস্যার মত প্যালেস্টাইনে হামাস ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
সূত্র-দ্যা প্রিন্ট
আরও পড়ুন:খাদ্য সঙ্কটের কারণে উত্তর কোরিয়ায় মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে, প্রতি কেজি কলা বিক্রি হচ্ছে 3000 টাকায়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন