![]() |
| Credit-AP |
নানা সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছিল 6 জন চাইনিজ সেনা মারা গিয়েছে। কিন্তু তা এ মুহূর্তে বেড়ে 9, নয় চাইনিজ ইঞ্জিনিয়ার মারা গিয়েছেন এই বোম ব্লাস্টে। বাকি তিন পাকিস্তানি। পাকিস্তানি সংবাদপত্র ডন এর সূত্রে পাওয়া ঘটনায় মোট 12 জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই ঘটনা নিয়ে চায়না খুবই রাগান্বিত। চিন এই ঘটনার তদন্ত করতে চায় এবং পাকিস্তান কে তদন্ত করার জন্য জোর দিচ্ছে চিন। চীন বলছে তাদেরকে আরও সিকিউরিটি প্রদান করতে CPEC Project কে সফল ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। দ্যা টাইমস অফ ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনার জন্য চায়না গভারমেন্ট খুবই রাগান্বিত এবং তারা এই প্রোজেক্টের জন্য সুরক্ষা চেয়েছে পাকিস্তান সরকারের কাছে।
পাকিস্তানের তরফ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে এই ঘটনা জল আর যদি বেশি দূর না গড়ায়। পাকিস্তানের বক্তব্য এই বাসে কিছু চাইনিজ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন আর কিছু পাকিস্তানি সাধারন জনগন বাসটি যাচ্ছিল ডাসু ড্যাম এর দিকে । ডাসু ড্যাম একটি under-construction ড্যাম যেটি চায়না এবং পাকিস্তান মিলে বানাচ্ছে। রাস্তায় বাস চলাকালীন গ্যাস লিক এর কারণে বড় একটা ধামাকা হয় এবং এই সকল লোক মারা যায় এবং কিছু লোক গুরুতর আহত হয়। যদিও এই তথ্য ধোপে টিকছে না। বাসে গ্যাস লিক হওয়া এবং এত বড় বিস্ফোরণ হয়ে বাস উল্টে পড়া এটি খুব আশ্চর্যজনক ঘটনা। একটি অবিশ্বাস্য তথ্য দিয়ে গোটা বিশ্বকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে পাকিস্তানের তরফ থেকে। যেকোনোভাবে পাকিস্তান এই বোম বিস্ফোরণ কে গ্যাস লিক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। তোদর স্পষ্ট দাবি এটি কোন আতঙ্কবাদী হামলা নয়।
কিন্তু অপরদিকে চায়না পাকিস্তানের এই কোথায় মজেনি। তারা বারবার দাবি করছে সিকিউরিটি বাড়াতে এবং এই ঘটনার যথাযথ তথ্য চায়নার হাতে দিতে। আতঙ্কবাদী দের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলছে। পাকিস্তানের তরফ থেকে দুদিক দিয়ে সমস্যা এক হল তাদের গায়ে লেগে থাকা আতঙ্কবাদী স্ট্যাম্প এবং অপরটি তাদের অর্থনৈতিক সংকটজনক অবস্থা। পাকিস্তান শুধুমাত্র CPEC PROJECT এর জন্য চাইনিজ ওয়ার্কার এবং ইঞ্জিনিয়ারদের সুরক্ষার জন্য 15000 সৈনিকের বন্দোবস্ত করেছে। যার পিছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এখানে একটা বোঝার উপায় আছে সীমান্তে সেনাদের একটি ফান্ড বা তহবিল থাকে যেটা এদিক ওদিক করে ম্যানেজ করা সম্ভব। সেখানে যেখান দিয়ে এই প্রজেক্ট যাচ্ছে গ্রাম অঞ্চলের মধ্যে সেনা ঢুকিয়ে বলা হচ্ছে চাইনিজ ইঞ্জিনিয়ার বা ওয়ার্কারদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে সেখানে তো একটা বিপুল পরিমাণ খরচা সম্ভাবনা থাকবেই। পাকিস্তান কখনো সেই খরচার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করেনি।
![]() |
| Credit-ANI |
বলাই যায় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার এই প্রজেক্টে শুধুমাত্র তদারকির কাজেই খরচ করছে পাকিস্তান শুধুমাত্র চাইনিজ ইঞ্জিনিয়ারদের সুরক্ষার জন্য। চাইনিজ ইঞ্জিনিয়ার এখানে বলছে তাদের সিকিউরিটি আরও মজবুত করতে। যেমনভবে তারা এই সিকিউরিটি চাইছে তার অর্থ হলো তাদের 15,000 সেনায় ভরসা হচ্ছেনা , তাদেরকে 30,000 সেনা দিতে হবে। আর সেটা যদি করে পাকিস্তান তাহলে সেনাবাহিনীতে খরচা আরো বেড়ে যাবে পাকিস্তানের। শুধু তাই নয় এই ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে তার ভাবমূর্তিও খারাপ হবে।
তারা কখনোই চায় না যে বিদেশি মিডিয়া কভার করুক তারিক-ই-তালিবান শক্তিশালী হচ্ছে পাকিস্তানের। আর চাইনিজ ওয়ার্কার ও পাকিস্তানে আর সুরক্ষিত নয় 15,000সেনা প্রদান করার পরও। এরপরও সৌদি আরব, তুর্কির মতো দেশের লগ্নি করার সম্ভনা আছে পাকিস্তানে। আর এমন ঘটনা যদি ঘটে থাকে তাহলে পাকিস্তান খাওয়াতে পারে তার এই সুযোগ। সেই জন্যেই নানা জার্নাল এ আমরা দেখতে পাই চায়না যেখানে বলছে 'বম্বিং' সেখানে ইসলামাবাদ বলছে 'গ্যাস লিক'। তাছাড়া সব থেকে আশ্চর্যজনক কথা হল চিনের নিউজপোর্টাল গুলি পাকিস্তানের এই ঘটনাকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলেছে।
আরও পড়ুন:খাদ্য সঙ্কটের কারণে উত্তর কোরিয়ায় মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে, প্রতি কেজি কলা বিক্রি হচ্ছে 3000 টাকায়
গ্লোবাল টাইমস কিছুদিন আগেই তাঁর এক আর্টিকেলে লেখে সত্যি কি এটা অ্যাক্সিডেন্ট ছিলো না আতঙ্কবাদী হামলা? আর যদি সেই আর্টিকেলটি আমি পুরো পড়েন তাহলে বহু জায়গায় উল্লেখ আছে তারিখ-ই- তালিবানের নাম। যে তালিবান পাকিস্তানে তালেবান ইমরান খান খারপ তালিবান বলে থাকেন। আর যদি এই মুহূর্তে পাকিস্তান স্বীকার করে নেয় যে এটি তালিবানের প্ল্যানমাফিক ব্লাস্ট তাহলে পাকিস্তানের চাপ আরো একটু বেড়ে যাবে। উপরন্তু তাদেরকে তারিবান নিধন করতে আবারো কাজ শুরু করতে হতে পারে। পাকিস্তানের এই মনোভাবে বিশ্বাসী নয় চায়না। সেইজন্যে চায়না থেকে তদন্ত কমিশন পাঠানো হবে এবং তদন্ত করে দেখা হবে কেন এই ব্লাস্ট। যদি এই ঘটনাটি গ্যাস লিক না হয়ে যদি বোম ব্লাস্ট হয় তাহলে চায়না এবং পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্বাসের জায়গাটি ভেঙ্গে যেতে পারে।
সে যাই হোক এই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে চায়নার সিপ্যাক প্রজেক্টে কোনরকম সমস্যা হবে না। কারো চায়নার জন্য সিপ্যাক প্রজেক্ট একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট যেটি কোন মূল্যেই বন্ধ করতে চায়না শি জিনপিং। চায়নার পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে চায়না খুব বড় মাত্রায় চিনা সৈনিক পাঠাতে পারে পাকিস্তানে। যেখানে অলরেডি 40,000 পিএলএ সেনা মোতায়ন করবে চীন পাকিস্তানের। যাদের কাজ হবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মচারীদের সুরক্ষা প্রদান করা। তবে চায়না যদি তার সৈন্য পাকিস্তানের মোতায়েন করে তবে তার খরচা কে উঠাবে? চায়না কি করবে খরচ বহন?
সূত্র- গ্লোবাল টাইমস এবং ডন
আরও পড়ুন:ব্যাঙ্কে পড়ে আছে বিপুল পরিমানে কালো টাকা, তবুও নিতে চায় না দেশটির নাগরিকরা!


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন