বাচ্চাদের সবথেকে পছন্দ হচ্ছে চকলেট। বাড়িতে বিশেষ মানুষ আসবেন শুনেই প্রিয় জিনিসটাই নিয়ে এসেছিল দুই ভাই। কিন্তু যেদিন তার আসার কথা ছিল, সেদিন তিনি আসতে পারিনি। তার ফলে ফ্রিজেই ঠাঁই পেয়েছে চকলেট দুটির। প্যাকেট হাতে নিয়ে দুই খুদের বক্তব্য,'রাখাই থাকবে ওগুলি। মমতা পিসি এলে তাকে দেওয়া হবে। তার তো আমাদের বাড়িতে আসার কথা ছিল! তারপর উল্টে তাদের প্রশ্ন 'মুখ্যমন্ত্রী কবে আসবেন জানেন?'
দশই মার্চ নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে আহত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেইদিনই বটতলা এলাকায় ফারুক আহমেদের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি যেতে পারিননি। স্কুল থেকে সুরজ এবং ফিরোজ আলম জেনেছিল, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তাদের বাবা-মা জানান, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাদের বাড়িতে আসছেন। তারপর থেকে চঞ্চল হয়ে উঠেছিল এই দুই খুদের মন। কিন্তু বিরুলিয়া বাজারে সেই দুর্ঘটনার পর তিনি আসতে পারেননি। জল পরে চকলেট দুটো ঠাঁই পায় ফ্রিজে।
নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়া বাজারের অদূরেই বটতলা। 100 মিটারের মধ্যে ফারুক আহমেদের বাড়ি।নন্দীগ্রাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকার জন্য যে কয়েকটি বাড়ি দেখা হয়েছিল তার মধ্যে এটাও একটি। মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন সেজন্য নিরাপত্তা পুরোপুরি খতিয়ে দেখা হয়েছে। বাড়ির চারিদিকে ভিউ কাটার হিসেবে কাপড় দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। বসানো হয়েছে CCTV ক্যামেরা। ফারুক জানায়,'আমাদের বাড়িতে প্রথমে দিদির আসার কথা ছিল। তার নিরাপত্তা রক্ষীরা সবরকম ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছিলেন। কিন্তু ওইদিনের ঘটনার পর তিনি আসতে পারেননি। ছেলেরাও খুব আশা করে রয়েছে। দিদিকে চকলেট দেবে বলে। আমরা সবাই চাই তিনি নন্দীগ্রাম আসলে এখানে যেন একবার আসেন।'
তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,'দিদি আসবেন ভেবেছিলাম সেদিনই। তবে তিনি তো আসতে পারেননি। আমিও চাই পরে হলেও একবার তিনি যেন আসেন।'শেখ সুরজ আলম, ফিরোজ আলম বলে, 'মমতা পিসির জন্য চকলেট কেনা হয়েছিল তিনি আসেননি। যেদিন আসবেন চকলেট গুলো দেবো।'স্থানীয় তৃণমূল নেতারা জানাচ্ছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বেশকিছু বাড়ি দেখা হয়েছে। রেয়াপাড়াতে একটি বাড়িতে তার থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। তবে বটতলার ওই পরিবার এখন মমতার আশাতে অপেক্ষারত।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন