তিনি আরও লিখেছেন, আগামী ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সফরে আসার কথা রয়েছে মোদির। তিন দিনের এই সফরে তিনি যোগ দেবেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে। তার সফরের ঠিক পূর্বে ঢাকা সফরে আসবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এসব সফরে দুধের একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চাইছে। অন্যদিকে করোনা ভাইরাস মহামারী শুরুর পর এটাই হতে যাচ্ছে মোদির প্রথম বিদেশ সফর। এরমধ্য বাংলাদেশ আগ্রাসীভাবে শিকোড় গেড়েছে চিন।তার পেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কের গুরুত্ব কতটা তাই ফুটে উঠেছে।
সাংবাদিক প্রভাস কে.দত্তের লেখা অনুসারে, আন্দামান সাগরে কমপক্ষে ৮০ জন রোহিঙ্গা একটি বোটে ভাসছেন।ওই বোটটি সমুদ্রের মাঝে অচল হয়ে পড়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত মাসে ভারতীয় উপকূল রক্ষীরা এসব রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করে। তাদের খাবার ফুরিয়ে গেছে পানীয় জল নেই। গত ১১ ফেব্রুয়ারি তারা বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্র পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু যাত্রার মাঝপথে ভারত মহাসাগরের মাঝে তাদের ভোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির থেকে যখন তারা ফুটে ওঠে তখন তাদের সংখ্যা ছিল ৯০ । এর মধ্যে ৫৬ জন নারী, ২১ জন পুরুষ, ৮ টি বালিকা এবং ৫ টি বালক। চার দিন তাদের ভোট চলার পর এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এর মত ভারতীয় উপকূল রক্ষী রা তাদের সন্ধান পাওয়ার আগে কমপক্ষে ৮ জন মারা যান। তাদের সন্ধান যখন পাওয়া যায়, তখন তারা সবাই ছিলেন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত। চরম মাত্রায় পানিয় জলের আভাবে ভুগছিলেন তারা। ভারত তাদেরকে খাবার সরবরাহ দিচ্ছে। চিকিৎসা দিচ্ছে। তবে তাদেরকে এখনো পর্যন্ত তীরে ভেড়ার অনুমতি দেয়নি ভারত।এনিয়ে জীবিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ভারত। কিন্তু বাংলাদেশ এসব রোহিঙ্গাকে ফেরত দিতে অস্বীকার জানিয়েছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য নয় বাংলাদেশ। তবে এসব রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের দরজা খোলার জন্য যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রেখেছে ভারত।
তবে এ নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব। তিনি বলেছেন, ওই ভোটে যেসব মানুষ বেঁচে আছেন তাদের মধ্য ৪৭ জনের কাছে পরিচয় পত্র আছে। যেগুলি বাংলাদেশে অবস্থিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার অফিস থেকে ইস্যু করা। এসব পরিচয় পত্রে বলা হয়েছে তারা মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি দেয়া হাই কমিশনে নিবন্ধিত। তাছাড়া ১৯৫১ এর রিফিউজি কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় ভারত-বাংলাদেশ। ওই কনভেনশনে শরনার্থীদের অধিকার সম্পর্কে বলা আছে।এছাড়া ওই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী কোন দেশে শরণার্থী ক্যাম্প থাকলে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের। ফলে বাংলাদেশ-ভারত কারো দায় নেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে।
দুই দেশের এমন অবস্থানের কারণে এখন সাগরে আটকে পড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি যোগ দেওয়ার আগেই উভয় দেশ এ সমস্যাটির সমাধান করতে চাইছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সফরে আসার পরিকল্পনা ছিল মোদির।কিন্তু সরকারিভাবে বলা হয় করোনা মহামারীর কারণে সেই সফর বাতিল হয়।কিন্তু পর্দার আড়ালে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে ক্ষোভের কথা বলা হয়।ভারতে ওই আইনে বাংলাদেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মুসলিম বাদে অন্য সব ধর্মের লোকেদের ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয় তা নিয়ে দেখা দেয় ক্ষোভ।
আরও পড়ুন:পাকিস্তানে দেখা মিললো নতুন ঐশ্বরিয়ার!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন