সরকারের কাছে GST কমানোর আবেদন জানিয়েছিল স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী সংস্থা গুলি।তবে সেই রাস্তায় না গিয়ে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পথে হাঁটল কেন্দ্র সরকার। মোবাইল যন্ত্রাংশ এবং চার্জারে  ২.৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। আর এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আত্মনির্ভর ভারতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেখান থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়, এর মাধ্যমে চীনকেও বার্তা দিতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার অন্যতম কারণ হলো, এই ধরনের মোবাইল যন্ত্রাংশ চীন থেকে আসে। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে মোবাইলের দাম বাড়তে পারে।

বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন,'সারাবিশ্বে মোবাইল থেকে শুরু করে মোবাইলের যন্ত্রাংশ ও মোবাইলের সঙ্গে দেওয়া হইত সমস্ত জিনিসের উৎপাদনে আগের থেকে অনেকটা এগিয়ে ভারত। তার ফলে, রপ্তানি ও করতে প্রস্তুত হচ্ছে দেশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো এবার থেকে মোবাইল এবং চার্জার এর মত পণ্য ভারতের কাছ থেকে কিনবে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই বাজারে তৈরি হয়ে গিয়েছে।'পাশাপাশি তিনি আরো জানান,'মোবাইল ফোনের চার্জার এবং যন্ত্রাংশের উপরে ছাড় তুলে নেওয়ার ফলে আগের থেকে আরও বেশি পরিমাণে বাড়বে ভারতের মোবাইল প্রস্তুত করার ক্ষমতা। তার কথায়,'খুব দ্রুততার সঙ্গে এদেশে ডোমেস্টিক ইলেকট্রিক্যাল মেনুফেকচারিং বাড়ছে। এবার আমরা মোবাইল এবং চার্জার এর মত জরুরী জিনিস রপ্তানি করব।'

অর্থমন্ত্রী কথায়,'বৃহত্তর দেশি ওমান সংযোজনের জন্য আমরা চার্জার এবং মোবাইলের যন্ত্রাংশের উপর আগের ছাড় প্রত্যাহার করছি। এছাড়া মোবাইলের কিছু যন্ত্রাংশ আগের এক্কেবারে শূন্য রেট থেকে মাঝারি রেপ ২.৫% শুল্ক বসানো হবে। খুব শীঘ্রই এই দাম বৃদ্ধি লাগু হবে।'অর্থমন্ত্রী খোলসা করে না বললেও আদতে এর প্রভাব পড়বে মোবাইলের দাম এর উপরেও। কারণ আগে যা করের আওতায় ছিল না, তার উপরে এবার কর বসেছে।তবে মোবাইলের ঠিক কোন কোন অংশগুলির উপরে এই শুল্কের বোঝা চাপবে তা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের জন্য প্রটেকশন লিংক ইন্সেন্টিভ প্রকল্প চালু করা হয়েছে।দেশে তৈরি স্মার্টফোন বাইরে আরও বেশি পরিমাণে রপ্তানি করার জন্য সরকারের তরফে স্কিম চালু করা হয়েছে। গত অক্টোবরে দেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী তরফের এই PLI প্রকল্পের আওতায় Samsung, foxconn Hon Hai, Pegatron, Rising star এবং wistron এর মত সংস্থাকে ভারতে স্মার্টফোন প্রস্তুত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বেশ কিছু দেশে সংস্থা যেমন Padget Electronics, Micromax, Lava, UTI Neolyncs এবং Optimise Electronics এর মত সংস্থাকেও এই একই প্রকল্পের আওতায় এ স্মার্টফোন তৈরি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন