সামনে বিধানসভা নির্বাচন, আর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দলবদল ঘিরে তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতি।এবার অভিষেকের ঘরে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙ্গন ঘটলো। জল্পনাকে সত্যি করে মঙ্গলবার বারাইপুরে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিলেন ডায়মন্ডহারবারের এর বিধায়ক দীপক হালদার। উল্লেখ্য, সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন দীপক।স্পিড পোস্ট এর মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। এরপরই তার বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা আরো জোরদার হয়। হাওড়া ডুমুরজলার সভায় শুভেন্দু বলেছিলেন, 'দক্ষিণ 24 পরগনা কলকাতা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফাঁকা করে দেবো।'

BJP তে যোগ দেওয়ার পর দিলীপ হালদার বলেন,'গত সাড়ে চার বছর ধরে তৃণমূলের কাজের পরিবেশ পাইনি। অনেক অপমানিত হয়েছি। অনেক অসম্মান করা হয়েছে। কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের যুব বাহিনী এখন দলের নেতা। আমাদের এলাকার সাংসদ ও নেতৃত্বকে বহুবার জানিয়েছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ডায়মন্ডহারবারে কোনো গণতন্ত্র নেই। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সে কারণেই বিজেপিতে আসা।'

উল্লেখ্য,'কয়েকদিন আগে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা বিজেপি র কলকাতা ট্রেনের পর্যবেক্ষক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান দীপক হালদার। তারপর থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক মহলে।সম্প্রতি কুলতলিতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় গরহাজির ছিলেন দীপক।সেদিনের সবাই দীপকের অনুপস্থিতিকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, দলের সঙ্গে তার সম্পর্কে মরিচা পড়েছে।


অন্যদিকে,গত শনিবারের দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে বিজেপিতে যোগদান প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া, উত্তর পাড়ার বিনায়ক প্রবীন ঘোষাল, হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। রবিবার হাওড়া ডুমুরজলার বিজেপির সভা একমঞ্চে তাদের দেখা যায়।হরিসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন রাজিবরা।এর আগে গত বছরের শেষ লগ্নে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর মন্ত্রিত্বও দল থেকে ইস্তফা নেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা।


সম্প্রতি দলত্যাগীদের নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,'যারা চলে যাচ্ছেন, বুঝবেন আপদ বিদায় হয়েছে। তিন ধরনের লোক রয়েছে রাজনীতিতে। লোভী, ভোগী ও ত্যাগী।'পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যারা গিয়েছেন, তাদের জিয়ার দলে ফেরানো হবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। এ প্রসঙ্গে দলনেত্রীর বার্তা,'এরপর আর তৃণমূলে আসার চেষ্টা করবেন না। আপনাদের নেব না। তোমাদের মত চোরকে নেব না।'দলত্যাগী দের উদ্দেশ্যে তৃণমূল সুপ্রিমোর এর প্রশ্ন,'তৃণমূল টিকিট দেবে না। তাই ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কেন টিকিট দেবে?' একুশের মহারণের মুখে একের পর এক দলীয় নেতার পদত্যাগের তৃণমূলের কাছে এবারের নির্বাচন কার্যত 'কঠিন চ্যালেঞ্জ' বলে মনে করেন রাজনীতিবিদদের একাংশ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন