ই মুহূর্তে ভারত সরকারের উপর আরোপ লাগছে, যে ভারত সরকার ইজরাইলি সফটওয়্যার pegasus ব্যাবহার করেছে ভারতের রাজনৈতিক নেতা সহ বিশিষ্ট জনগনের উপর। না শুধু ইন্ডিয়ান গভর্মেন্টের উপর আরোপ লেগেছে, এমন নয় ।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর লেগেছে এই আরপ। যে নিজের দেশের জনগণের উপর নজর রাখতে এই সফটওয়্যার ইউজ করা হয়েছে। এই ঘটনার জল এতটাই গড়িয়েছে যে ভারতের পার্লামেন্টে ও তোলা হয়। পার্লামেন্টে ভারত সরকার বলে, এই সফটওয়্যার এর কোন খারাপ উদ্দেশ্যে জন্য ব্যবহার করা হয়নি।



বর্তমানে কেন্দ্রের শাসক দল BJP এর সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেছেন, বিজেপি তার দলে নেতাদের উপর নজরদারি রাখতে পেগাসাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করেছে। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং লন্ডন গার্জেন একটি আর্টিকেল পাবলিশ করবে, পেগাসাস দ্বারা নজর রাখা হয়েছে যাদের উপর। তাছাড়া ভারতের শাসক দলের বিপরীতে অবস্থানকারী কংগ্রেস দাবি করছে পেগাসাস সফটওয়্যারের নজরদারি ঘটনাটি যথাযথ তদন্ত হোক। তারা জানতে চাই কেমন ভাবে পেগাসাস ব্যবহার করেছে ভারত সরকার। 

পেগাসাস কি? (what is PEGASUS) 

পেগাসাস হল হাইলি অ্যাডভান্স একটি স্পাইওয়্যার,  স্পাইওয়্যার হল এক প্রকারে ম্যালওয়ার। আর ম্যালওয়ার হল একটি কম্পিউটার বা ইলেকট্রিক ডিভাইস কে ক্ষতিসাধন করে এমন সফটওয়্যার। ম্যালওয়ার অনেক ধরনের হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি রেনস্যামওয়ার ও একটি ম্যালওয়ার। রেনস্যামওয়ার এর কাজ হল কম্পিউটার কে হাইজ্যাক করে নেওয়া। আর তারপর মুক্তিপণ যেমন হয় তেমনি আপনার ফাইল কে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ চাইবে। আর আপনি যদি মুক্তিপণ না দেন তাহলে আপনার দরকারি ফাইলগুলি খোয়াতে হবে। তাচাড়া এডওয়ার এমনই অনেক প্রকারের অনেক রকমের ম্যালওয়ার হয়ে থাকে। স্পাইওয়্যার একটি প্রকার ম্যালওয়ারের। আর স্পাইওয়্যার নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটা স্পাই করার কাজে লাগে। 


আর পেগাসাস কি ডেভেলপ করেছে ইসরাইলি একটি প্রাইভেট কোম্পানি NSO Group। এরা এখানে বলে থাকেন এদের স্পাইওয়্যার এই সফটওয়্যার ওয়ার্ল্ডের সবথেকে বেস্ট সফটওয়্যার স্পাই করার জন্য। এর দ্বারা যে কোন ব্যক্তির ফোনে নজর চালানো যায়। তার ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট কে শুরু করে তার কল লিস্ট, কল লগ, কাকে সে এসএমএস করছে। কোন অপর এপ্লিকেশন দিয়ে সে চ্যাটিং করছি কিনা। সম্পূর্ণ তথ্য পেগাসাস দ্বারা পেয়ে যায় । 


এখন আপনার মনে প্রশ্ন হতে পারে ইজরাইলি প্রাইভেট কোম্পানি NSO Group এই সফটওয়্যার বিক্রি করছে কিভাবে? এখানে তারা কি বলতে পারে যে যে কোন ব্যক্তির উপর নজরদারি চালাও? এখানে কি কোন হিউম্যান রাইট লংঘন হয় না?  একদম এটা ঠিক তার জন্য আপনাকে যেতে হবে NSO Group এর ওয়েবসাইটে। আর সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে এই সফটওয়্যার ডেভেলপ করে নি। এই সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হয়েছে গ্লোবাল সিকিউরটি এবং স্টেবিলিটি জন্য। তাদের কথায় তাদের পেগাসাস ছাড়া ডেভলপ করা যত রকম সফটওয়্যার আছে। তারা শুধুমাত্র পেগাসাস নয় আরো অনেক রকম সফটওয়্যার এবং ডিভাইস ডেভেলপ করে থাকে। এদের আসল টার্গেট থাকে আতঙ্কবাদী এবং ড্রাগ সাপ্লায়ার দের রুখতে এইসকল স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। যেমন অনেক ক্ষেত্রে আতঙ্কবাদীদের চিহ্নিত করা গেলেও প্রমাণ না থাকার কারণে ধরা সম্ভব হয় না। তখনই তার ফোনে নজরদারি রাখা হয় এই সফটওয়্যার এর মধ্য দিয়ে। আর এই সফটওয়্যার এমন না ব্যবহার করা হয়নি এর কারণে প্রচুর আতঙ্কবাদী ধরা পড়েছে এবং প্রচুর বোম ব্লাস্ট হতে হতে হয়নি পুরো দুনিয়ায়। এর জন্য তো পেগাসাস কে ধন্যবাদ দিতেই হয়। 



তবে পেগাসাস কে সব সময়ে ভালো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি? না হয় নি , পেগাসাস আপনা আপনি একটি খুবই শক্তিশালী সফটওয়্যার। আপনি যে কোন অচেনা ব্যক্তির ফোন অ্যাক্সেস করতে পারেন সে কার সাথে কথা বলছে জানতে পারেন নিমেষে। আর সেই জন্যেই এই সময় দাঁড়িয়ে ভারত সরকারের উপরে উঠছে আঙুল যে তারা জনগণ তথা তাদের নিজেদের মন্ত্রীর উপর নজর রাখছে। তাদের ফোন বা ডিভাইস থেকে তথ্য চুরি করছে তাদের ব্যক্তিগত দলের স্বার্থে। আর এখানে দেশের জাতীয় সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়ছে আর সরকার তার নিজের কন্ট্রোল বাড়াচ্ছে, এমন অভিযোগ বিরোধি দলে তথা তার দলেরই একাশের। 


আর এই আরপ শুধু কি ভারত সরকারের উপরে লাগছে বা লেগেছে এমন নয় এর আগে আজারবাইজান, মেক্সিকো, কাজাকিস্তান, হাঙ্গারি, ইউনাইটেড আরব এমিরেটস, মরক্কো, বাহারিন, রণ্ডার মতো দেশের সরকারের উপর আরোপ লেগেছে নিজের দেশে তদের সরকারকে‌ টিকিয়ে রাখতে NSO Group এর পেগাসাসের ব্যবহার করছে। আর এ আরোপ লাগচ্ছে কে? 17 টি মিডিয়া অর্গানাইজেশন এক‌ হয়ে গিয়েছে যার মধ্যে দ্যা গার্ডিয়েন, দ্যা ওশিংটন পোস্ট ইন্ডিয়ার নিউজ পোর্টাল দ্যা ওয়ার আরও বিভিন্ন বিভিন্ন নিউজ অর্গানাইজেশন একসাথে এসে তারা রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং এরা তদন্ত ‌‌‌‌‌‌করে নির্ধারন করে এই সব দেশে‌ পেগাসাস দ্বারা সরকার জনগন কে‌ নিয়ন্ত্রণ ‌‌‌করছে। তবে কি এদের কাছে কি উপযুক্ত প্রমাণ আছে। না তেমন কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। আর এই সমস্যা এমন নয় যে এখন এটা সংবাদে প্রকাশ হয়েছে। এই সমস্যা অক্টোবর 2019 এ ও দেখা গিয়েছিল,যে বিশ্বের অনেক দেশ পেগাসাস ব্যবহার করছে । যে সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে আতঙ্কবাদী অথবা ক্রিমিনাল দের জন্য সেই সফটওয়্যার দেওয়ার করা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে আর সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য।

এরপর যদি বলি সরকার এই সফটওয়্যার ব্যবহার করছে যেসব ব্যক্তিদের উপর যাদের কোন ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই অথবা তারা জড়িত না কোন অপরাধ জনক কাজে তবে কি সরকারি ঠিক করছে? তবে তো এক কথায় বলা যায় একদমই না। সে ইউনাইটেড স্টেড নেশন হোক অথবা ভারত এখানে সংবিধানে 'রাইট টু প্রাইভেসি' খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের ক্ষমতা নেই আপনাকে কিছু না বলে আপনার ফোনে বা আপনার প্রাইভেট প্রপার্টিতে নজরদারি চালানোর। আর এখানে সরকারের বক্তব্য, আমরা এমন ধরনের কিছু করিনি, আমরা মানি 'ফ্রিডম অফ স্পিচ' একটি মৌলিক অধিকার তার সাথে 'রাইট টু প্রাইভেসি' এটি একটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে যার উপর আমরা যত্নশীল। আমরা এখানে কোন কথাবার্তা ছাড়াই কারোর উপর নজরদারি করিনা। সরকার পুরোপুরি এই আরোপকে মিথ্যে বলে জানিয়েছেন।
 
কিন্তু অপজিশন পার্টি এটি মানতে নারাজ। পেগাসাস এর ব্যবহার ভারতে হয়েছে । আসাউদ্দিন ঐশী বলেন, 'পেগাসাসের ব্যবহার একটি হ্যাকিং, আর হ্যাকিং একটি অপরাধ। আর হ্যাকিং কেউ ব্যক্তিগত করুক অথবা সরকার' । পেগাসাস কিভাবে আপনার ফোন হ্যাক করে, শুধুমাত্র একটি কল আসে আর যেটি রিসিভ করা মাত্রই পেগাসাস এর হাতে চলে যাবে আপনার সকল রকম তথ্য। শুধুমাত্র একটা ফোন কল। আর এটি এতটাই সুরক্ষিত সফটওয়্যার যে কল করার পর কল লগে থাকবে না সেই নাম্বারো। এখানে থাকবে না কোন কল হিস্ট্রি, থাকবে না কোনো প্রমাণ, আর সেহেতু কোন এভিডেন্স থাকবে না। আর ফোনও হয়ে যাবে হ্যাক। দুরে কোনো বসে থাকা হ্যাকার সেটিকে একসেস করবেন।



ঘুরেফিরে এখানে চাপ বাড়ছে ইসরায়েলি প্রাইভেট কোম্পানি NSO Group এর উপর। দুনিয়ায় নিউজ আউটলেটের দাবি NSO Group কে প্রকাশ করতে হবে যে সকল সংস্থা বা সরকার পেগাসাস ব্যবহার করছে তাদের তালিকা। এখানে NSO Group এর দাবি তারা এসব করতে‌ পারে না কারন‌ তারা যদি এই তালিকা প্রকাশ করে তাহলে পুরো দুনিয়া ক্রিমিনাল, আতঙ্কবাদী সতর্ক হয়ে যাবে তাদেরকে ট্রাকিং করা হচ্ছে সরকার তাদের পিছনে পড়ে আছে। এখানে‌ একটি দেশের সিকিউরিটি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। আর এখানে কথা ওঠে সিকিউরিটি বনাম রাইট টু প্রাইভেসি। আর এখানে আপনার মতামত কি কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন